দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে এটি একটি যুগান্তকারী রায়। এই রায়ে নিহতের পরিবার ও নারায়ণগঞ্জ বাসীর সাথে আমরাও খুশি।’

মঙ্গলবার হাইকোর্টের ঘোষণা করা আলোচিত ৭ খুন মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এভাবেই ব্যক্ত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান।

মেয়র আইভী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউই না। আইনের চোখে সবাই যে সমান, তা আরেকবার প্রমাণিত হলো এই রায়ের মাধ্যমে। সেটা যেই হোক। কোনও বিশেষ বাহিনী নয়, অপরাধীর পরিচয় অপরাধীই।

এই রায়ে প্রমাণিত হয়েছে যে বিচার বিভাগ স্বাধীন ও সদিচ্ছা আছে। বিচার বিভাগ যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেটাও প্রমাণিত হয়েছে। এই রায়ের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জবাসী একমত হবেন আশাবাদ সিটি মেয়র।

শামীম ওসমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী রায় , যে রায় দেশবাসী প্রত্যাশা করেছিল সেই রায় তারা পেয়েছে । নিহতের পরিবার ও নারায়ণগঞ্জ বাসীর সাথে আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট।

প্রসঙ্গত, চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‍্যাবের বরখাস্তকৃত তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন রায় দেন। এ মামলার ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ১৬৩ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি, জুডিশিয়াল রেকর্ড, সিডিসহ বিভিন্ন নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পৌঁছে দেন বিচারিক আদালত। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপারবুক প্রস্তুতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে এসেছে। পেপারবুকটি প্রায় ছয় হাজার পৃষ্ঠার।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরের দিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।

ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।