আজকালকার আধুনিক যুগে নিজের বয়স একটু কম দেখানোর জন্য অনেকেই প্রচুর পরিমাণে মেকআপ এবং ডাক্তারি সার্জারির সাহায্য নিয়ে থাকেন। কিন্তু এই কৃত্রিম পদ্ধতিগুলো দেহের ও ত্বকের জন্য অত্যন্ত খারাপ, কারণ প্রত্যেকটিরই রয়েছে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

বয়স বাড়ছে বাড়ুক, কিন্তু নিজের শরীর ও চেহারাকে রাখুন চিরতরুণ। কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব আসুন জেনে নেয়া যাক-

১) নিজের খাদ্য তালিকাকে বদলে ফেলুন। খাদ্য তালিকায় যোগ করুন অধিক আঁশ যুক্ত খাবার। কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাবেন না। পরিমিত প্রোটিন ও প্রচুর সবজি ও ফল যোগ করুন খাদ্য তালিকায়।

২) ওজন বেশি হলে বয়স সাধারনের তুলনায় একটু বেশী দেখা যায়। তাই সবার প্রথমে দেহের বাড়তি ওজন ঝরিয়ে ফেলুন। ১০ কেজি ওজন কমাতে পারলে দেখবেন আপনার বয়স প্রায় ১০ বছর কমে গিয়েছে। ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলুন বাড়তি ওজন। কিন্তু খুব বেশি ওজন কমাতে যাবেন না। নারী দেহে ১৪% ও পুরুষ দেহে ৬% ফ্যাট থাকা জরুরী। এতে মুখমণ্ডলে শুকনো ভাব থাকে না এবং বয়স অনেক কম দেখায়।

৩) দৈনিক অন্তত আধা ঘণ্টা ব্যায়াম করুন। সকালের পরিষ্কার বাতাসে করতে পারল আরও ভালো।

৪) দৈনিক অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা পানি জাতীয় খাবার পান করুন। উপুড় হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন। এতে মুখে খুব সহজে বলিরেখা পড়ে যায়।

৫) অতি অবশ্যই কোমল পানীয় পান ত্যাগ করুন। একই সাথে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারও পরিহার করুন।

৬) ভুলেও ধূমপান করবেন না বা মদ্যপান করবেন না।

৭) সানস্ক্রিন ব্যভারকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এই চমৎকার জিনিসটি আসলে আপনার যৌবন ধরে রাখতে অত্যন্ত সহায়ক।

৮) নিজের স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখুন। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করতে যোগ ব্যায়াম সহ আরও যা যা করা সম্ভব করুন।

৯) প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে ত্বককে প্রাণবন্ত করে তোলে। এছাড়াও বাদামের তেল জাতীয় প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে সরাসরি প্রয়োগেও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং ত্বকের বয়সের ছাপ দূর হয়। ভিসি লিফটাক্টিভ সিএক্সপি বায়ো লিফটিং কেয়ার, পমোগ্রেনেট ফেইস সিরাম ক্রিমগুলো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হয়ে থাকে।

১০) মুখের যত্ন করার পাশাপাশি হাত ও পায়ের যত্ন করতেও ভুলবেন না। নিয়মিত পেডিকিউর ও মেনিকিউর করুন।

১১) চোখ ও এর চারপাশের এলাকার বেশী যত্ন করুন। ভালো করে ঘুমাবেন, কোন বাজে মেকআপ বা পণ্য ব্যবহার করবেন না। চোখের পাশের তোকে হাতের আঙ্গুল বা তোয়ালে দিয়ে ঘষবেন না। এই এলাকাগুল খুবই নরম বিধায় সহজেই ক্ষতিগ্রস্থ হিয় ও চেহারায় বলি রেখা পড়ে।

১২) প্রচুর ঘুমাবেন। শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেবেন। এবং ঘুম যেন আরামের হয় সেটা লক্ষ্য রাখবেন।

১৩) গরম পানি দিয়ে বেশী সময় ধরে এবং নিয়মিত গোসল করবেন না। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়েই গোসল করুন।

১৪) মুখ বা হাত পায়ের ত্বকে খুব বেশী স্ক্রাবিং করবেন না। বাইরে থেকে ফিরে মুখ ও দেহ পরিষ্কার না করে ঘুমাবেন না। মুখে মেকআপ সহ তো মোটেও না।