প্রায় তিন বছরের মাথায় হঠাৎ করে জনসমক্ষে এলেন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির গোলটেবিল মিলনায়তনে বর্তমান সময়ের আলোচিত-সমালোচিত বিষয় ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সম্পর্কিত সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ের প্রসঙ্গ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে মন্ত্রিসভায় ঠাই পান তিনি। একইসাথে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে ক্ষমতাসীন দলে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন রাজনৈতিক অঙ্গনে স্পষ্টভাষী ও আত্মম্ভরী হিসেবে পরিচিত আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

কিন্তু ২০১৪ সালের ২৯ সেপ্টম্বর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে নিউনিয়র্ক টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে কটূক্তি করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তখনকার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তাকে গ্রেফতার এবং মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়ার দাবি উঠে বিভিন্ন মহল থেকে। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্য থেকে একই দাবি উঠে। ওই বছরের অক্টোবরেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই মাসে তাকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর পর লতিফ সিদ্দিকী যুক্তরাষ্ট্রে থাকার মধ্যেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মামলা হতে থাকে। এসব মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে থেকে ভারত হয়ে ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশে ফেরেন তিনি। সবার চোখ এড়িয়ে চলে যান বাসায়। দুদিন পর নিজেই ধানমণ্ডি থানায় গিয়ে ধরা দেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

পুলিশ আদালতে নিয়ে গেলে তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। বিভিন্ন মামলায় নয় মাস কারাবাসের পর ২০১৫ সালের বছরের ২৯ জুন জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে কারাগারে থাকার সময়টাতে অধিকাংশ দিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। এরপর থেকে অনেকটা আড়ালে চলে যান এক সময়ের দাপুটে মন্ত্রী। কোনো সংবাদ মাধ্যম বা সামজিক অনুষ্ঠানেও দেখা যায়নি তাকে।