মোবাইলের কোনও সমস্যা মেকানিক বা মেরামতকারীর কাছে যাওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। এর মাধ্যমে নিজের কোনও ক্ষতি বা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার ভয় কারো মনে উঁকি দেওয়ার কথা নয়। সাধারণ মানুষের বিশেষ করে নারীদের থেকে এই সুযোগই নিচ্ছে একটি চক্র! তারা মেরামত করতে দেওয়া মোবাইল থেকে হাজার হাজার নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য চুরি করে প্রতারণা করছে।

১৩ই আগস্ট রবিবার এমন একটি প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। এর মধ্যে রাজধানীর শাহবাগ থেকে মো. আলামিন শেখ ওরফে সবুজ (২৬) ও গোপালগঞ্জ থেকে শাহাদাত হোসেন মধু (২৫) নামে প্রতারক চক্রের এ দু’জনকে গ্রেফতার করে। তারা মোবাইল মেরামতের কাজ করে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব এই বিষয়ে বিস্তারিত জানায়।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতার দুইজনের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার, নয়টি মোবাইল ফোন, প্রচুর পর্নো ভিডিও এবং শতাধিক নারীর প্রায় ১৫ হাজার একান্ত ব্যক্তিগত ছবি উদ্ধার করা হয়েছে।

মোবাইল থেকে যে কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হতো ছবি?

কোনও কাস্টমার যখন তাদের নষ্ট মোবাইল ফোন নিয়ে সার্ভিসিংয়ের দোকানে যায় তখন মেরামতকারী প্রতারক চক্রটি ওই মোবাইল থেকে সব তথ্য ও ছবি তাদের ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা ল্যাপটপে স্থানান্তর করে। গ্রাহকের মোবাইলে ইমো অ্যাকাউন্ট থাকলে প্রথমে তার মিরর কপি তাদের মোবাইলে ইনস্টল করে নেওয়া হয়। ভিকটিমের নাম্বার দিয়ে প্রতারক চক্রের নিজস্ব মোবাইলে নতুন ইমো অ্যাকাউন্টের রিকোয়েস্ট পাঠালে ওই রিকোয়েস্টের বিপরীতে ভিকটিমের মোবাইল ফোনে ইমোর ভেরিফিকেশন কোড আসে। তা সঙ্গে সঙ্গে প্রতারক চক্রের মোবাইলে স্থাপন করে এবং ভিকটিমের মোবাইলের মেসেজ অপশন থেকে ভেরিভিকেশন কোড মুছে ফেলে। এর ফলে একই সময়ে একটি ইমো অ্যাকাউন্ট দুইটি মোবাইলে চলমান থাকে।

এর মধ্য দিয়ে প্রতারকরা ভিকটিমের ইমোর সব কার্যকলাপ ফলো করা এবং একান্ত গোপনীয় আলাপচারিতা, ছবি গোপনে ডাউনলোড করতো। পরবর্তীতে এর বিনিময়ে টাকা আদায় ও ভিকটিম অফলাইন থাকলে তার ইমো থেকে নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলাপচারিতা করত। গ্রেফতারকৃত দু’জন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবের কাছে স্বীকার করেছে উঠতি বয়সের তরুণী, প্রবাসী এবং প্রবাসীদের নিকটাত্মীয় তাদের টার্গেট করে এই চক্রটি এই প্রতারণার কাজ করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে।

গ্রাহকদের যেভাবে প্রতারণা করা হত

গ্রেপ্তারকৃত শাহাদত হোসেন মধু জানায়, সে ১০ বছর মোবাইল মেরামতের কাজ করে। বিভিন্ন সময় তার দোকানে আসা ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন মেরামতের নামে সে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ইমো অ্যাকাউন্ট হাতিয়ে নিত। পরে তা ঢাকায় অবস্থানরত তার বন্ধু আল আমিন শেখ সবুজকে দিতো। তারপর আল আমিন শেখ সবুজ কৌশলে ওই ইমো অ্যাকাউন্টের সহায়তায় আরও অনেকের ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করত। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য ও ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করত।