বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করেছেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।
মঙ্গলবার ১৫ আগস্ট দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য এই মেজবানে ৪০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা ছিলো। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় আগত শোকার্ত মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মেজবানে অংশ নেন। গত বছর মেজবানে ৩৫ হাজার মানুষকে আপ্যায়ন করা হয়।
নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক জানান, টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে ২৫ হাজার মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য সোমবার ২৬টি গরু জবাই করা হয়। এখানে ছিলো ঐতিহ্যবাহী মেজবানি গরুর মাংস, সাদাভাত, চনার ডাল দিলে লাউ আর নলির ঝোল।
তিনি আরো জানান, বালাডাঙ্গা এস.এম মুসা হাই স্কুল মাঠে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ১৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। তাদের খাবারের মেন্যুতে ছিলো ১০ হাজার মুরগি, সাদাভাত ও লাউ দিয়ে চনার ডাল ।
মেজবানের আয়োজন করতে বয়-বাবুর্চি নিয়ে ৪০ সদস্যের একটি টিম রোববার টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে বলে জানান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর এপিএস মোঃ ওসমান গনি ।
এপিএস মোঃ ওসমান গনি বলেন, ২৬ টি গরু ও ১০ হাজার মুরগি, চাল, ডাল, মসলা, জ্বালানী ক্রয় সহ আয়োজনের সব কাজে টুঙ্গিপাড়ার নেতা কর্মীরা আন্তরিকভাবে সহায়তা করেছে।
তিনি আরো জানান, মেজবান সফল করতে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নেতৃত্বে প্রায় ৫০০ নেতা কর্মী চট্রগ্রাম থেকে ১৪ আগস্ট রাতে টুঙ্গিপাড়া এসে পৌছান।
মঙ্গলবার সকালে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা জানানোর পর মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মহিউদ্দিন চৌধূরী ছেলে ব্যারিষ্টার নওফেল উপস্থিত ছিলেন। এরপর কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কোনারখানী ও মিলাদ শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে টুঙ্গিপাড়ায় মেজবান শুরু করা হয়।
পিরোজপুর জেলার সাউথখালী ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামের কেরামত আলী বলেন, মহিউদ্দিন ভালো ব্যবস্থাই করেছেন। আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এখান থেকে খেয়েছি। আমাদের মতো হাজার হাজার নেতা কর্মী এখানে এসে খেয়েছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু জানিয়েছেন, গত বছর মহিউদ্দিনের মেজবানে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার পর এবার মেজবান হবে কি না তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় ছিল। সে সংশয় কাটিয়ে আমাদের প্রিয় নেতা এবার ৪০ হাজার মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে মেজবানের আয়োজন করেন। গত বছর ৩৫ হাজার লোকের জন্য মেজবানের আয়োজন ছিলো।





