কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম’র (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগস্ট মাস শোকের মাস। আগস্ট মাস নাশকতার মাস এবং চক্রান্তের মাস।

জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ আসেন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে। সে হিসেবে এই দিনটিকে সামনে রেখে নব্য জেএমবি একটি সেল বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পন করছিল।

মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা জানতে পারি এই জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করে। তাছাড়া এই শোকের মাসে তারা আরেকটি দিবস তৈরী করা জন্য নাশকতার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে আমরা নিশ্চিত হই যে, পান্থপথের হোটেল অলিও ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে জঙ্গিরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে এবং তারা সেখানে অবস্থান করছে। এরপর সন্ধ্যা রাতে আমার ‘ব্লক রেইড’ শুরু করি। পরে আবার গভীর রাতেও ‘ব্লক রেইড’ দেই এবং আমরা নিশ্চিত হই। এরপর ওই হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে নক করি। সবাই দরজা খুলে দিলেও ২০১ নম্বর রুমের দরজা নক করার পরও খুলেনি এবং ভিতর থেকে বলা হচ্ছে সকালের আগে দরজা খুলবো না। এরপরই আমাদের সন্দেহ হয় এবং করিডোরের জানালা দিয়ে ভিতরে তার ও ব্যাগ দেখা যায়। তখন ব্লক রেইডে যারা অংশ নিয়েছেন। তারা রুমের বাহির থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর সোয়াট টিম এখানে উপস্থিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘৩২ নম্বরে সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন চলছিল। এ কারণে আমরা একটু সময় নেই এবং তাকে (জঙ্গি) আত্মসমর্পণের জন্য বলা হয়। ওই জঙ্গি আমাদের অনুরোধে সাড়া না দিলে আমরা অভিযানের সিদ্ধান্ত নিই। এ সময় সোয়াটের অভিযানকালে সোয়াট গুলি ছুঁড়লে ভিতর থেকে জঙ্গি গ্যাস ছাড়ে। এর কিছুক্ষণ পর রুমের ভিতরে বিস্ফোরণ হয়। এরপর ওই রুমের দরজা ভেঙ্গে পড়ে। ভিতর থেকে জঙ্গি বের হয়ে আসে এবং পরে আরও একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই বিস্ফোরণ এবং সোয়াটের গুলিতেই মূলত জঙ্গি নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে তার ব্যাগের ভিতর থেকে আরও একটি তাজা বোমা উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ট্রাভেল ব্যাগে করেই এই বোমা বহন করে নিয়ে আসে জঙ্গি। মোট তিনটি বোমা তার কাছে ছিল।’

সরকারের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘৩২ নম্বরে যারা মিছিল নিয়ে আসবে, সেই মিছিলে ঢুকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বড় ধরণের হতাহতের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা ছিল জঙ্গির। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই তারা এটা করতে চেয়েছিল। তবে আমাদের প্রচেষ্টায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।পরে হোটেলের দেয়া ওই জঙ্গির তথ্য মতে, আমরা জানতে পেরেছি ওই জঙ্গির নাম সাইফুল ইসলাম। সে খুলনা বিএল কলেজের শিক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়াতে। ছাত্র জীবনে ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। পরবর্তীতে সে জঙ্গিবাদের সাথে জড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে আমরা এই ‘অপারেশন আগস্ট বাইট’ সমাপ্ত ঘোষণা করেছি।