ফরিদপুর চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের বড় বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের মনোয়ারা বেগম গত শনিবার তার মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। ওই রাতে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি বলে তার থাকার ঘরটি খালি ছিল। গভীর রাতে পানির শব্দে তার মা ছোট খাতুনের ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখেন পদ্মা নদীতে মনোয়ারার ঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তাদের সহায়তায় ঘরের কিছু অংশ রক্ষা করতে সক্ষম হন ছোট খাতুন।

সে রাতের ভাঙনের ভয়াবহ ঘটনার কথা বলতে গিয়ে ভয়ার্ত কণ্ঠে সত্তরোর্ধ ছোট খাতুন বলেন, 'রাইতে পানির হুসানিতে ঘুম ছুইড্যা গ্যাছে, উইডা দেহি মনোয়ারার ঘরের কোনা নাই। '

চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজাদ খান জানান, গত শনিবার থেকে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর সঙ্গে শুরু হয় ভাঙন। শনিবার রাতে ইউনিয়নের বড় বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের শেষ মাথায় প্রায় ৫০০ মিটার জায়গাজুড়ে ভাঙন দেখা দেয়। গত তিন দিনে ওই গ্রামের ২২টি পরিবার তাদের বসতঘর হারিয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে বিলীন হয়েছে পারিবারিক কবরস্থানও।

ঝুঁকিতে পড়ে রবিবার অনেক চেষ্টায় গ্রামের জালাল খান, ছোট রশিদ, উজ্জ্বল খান, মনোয়ারা, ছোট খাতুন, জান খান, রশিদ মোল্লা, ছকেল মোল্লা, হায়দার মোল্লার বাড়ির মালামালসহ অন্য ঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

আজ সোমবার পর্যন্ত ২২টি  বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং আরও ২৭টি বাড়ি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া মোল্লাডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফাজেল খাঁরডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। তিনি বলেন, ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা না নিলে বহু বাড়ি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, জান খার বাড়ির মাত্র ২০ গজ দূরে রুদ্রমূর্তি ধরে এগুচ্ছে পদ্মা নদী। সেখান থেকে মালামাল সরাতে ব্যস্ত জান খান বিলাপ করে বলেন, "মাথা গোঁজার একমাত্র স্থানটুকু গাঙ্গে নিয়া যাইবো। কোথায় জাইয়্যা দাঁড়ামু জানি না। রাস্তায় নিয়া মালামাল কয়খান রাখতেছি। অনেকের কাছে থাকার জন্য সনকড়া (বছরচুক্তি) একটু জায়গা চাইছিলাম কেউ দেয় নাই। " তিনি ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সগীর হোসেন বলেন, "ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে। "

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, "সরেজমিন গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। " তিনি বলেন, "চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। "