জলাবদ্ধতা রাজধানীবাসীর অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে করে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খাল, বিল ও জলাশয় ভরাট এবং ড্রেনেজ সিস্টেমের কার্যকরী ব্যবহারের অভাবে এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে দখল হওয়া খাল-বিলগুলো উদ্ধার করতে হবে। একইসাথে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

তারা বলছেন, বর্তমানে যে ড্রেনেজ সিস্টেম রয়েছে তা ঠিকমত ব্যবহার করতে হবে। এটা পরিস্কার রাখতে হবে। সব জায়গায় বাড়ি হয়ে যাচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। কিছু কিছু খালি জায়গা রাখতে হবে যাতে মাটি পানি শোষণ করে নিতে পারে। বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বিডি২৪লাইভকে বলেন, আগে যে খাল-বিল এবং জলাশয় ছিল সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও ডোবা বা ছোট ছোট নিচু এলাকা ছিল। তখন বৃষ্টি হলে পানি ওখানে চলে যেত। এরপর আস্তে আস্তে ওখান থেকে নদীতে বা জলাশয়ে চলে যেত। এর ফলে কোন জলাবদ্ধতা হত না। পরবর্তীকালে এ ন্যাচারাল খাল-বিলগুলো ভরাট করে দেয়া হল এবং অনেকগুলো নিচু এলাকাও ভরাট করা হল। এখন দ্রুত পানি সরতে পারে না। তাই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, খাল-বিল ভরাট করার পর অনেকগুলো ড্রেন অপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে যে ড্রেনেজ সিস্টেম চালু রয়েছে সেই ড্রেনেজ সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর না। বর্জ্যের কারণে ড্রেনগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে থাকে। তাই এটাও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একটা বিষয় হল প্রয়োজনের তুলনায় কম আরেকটা হল যতটুকু আছে তাও ঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।দখল হওয়া খাল উদ্ধার করে নদীর সাথে সংযুক্ত করা গেলে জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান হবে বলেও মত আবু নাসের খানের।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রথম কথা হল, খালগুলো উদ্ধার করে নদীরসাথে সংযুক্ত করতে হবে। আমাদের যে সমস্থ ডেনেজ সিস্টেম আছে সেটা ভালভাবে কাজে লাগাতে হবে। এটা পরিস্কার রাখতে হবে এবং মুখটা যাতে ভরাট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি একটা পরিকল্পনা করতে হবে। একটা মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। খোলা জায়গা রাখতে হবে। যেন মাটির ভেতরে পানি শোষণ করতে পারে। গাছের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলাল বিডি২৪লাইভকে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে মূল কাজটা করে ওয়াসা। তারাই ব্যবস্থা নেয়। ওয়াসার লাইনের সাথে আমাদের ড্রেনের কাজ রয়েছে। আমরা ওয়াসার সাথে বসেছি। কারণ এককভাবে কেউ সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। আমরা চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।বক্স কার্লভার্ট পরিষ্কারসহ নানা রকম কাজে আমাদের কর্মীরা মাঠে থাকে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নগর পরিকল্পনা করার দরকার।

এদিকে জলাবদ্ধতার সমস্যার সাথে বর্ষাকালে বিভিন্ন রাস্তাঘাটে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। বিষয়টি নিয়ে খান মোহাম্মদ বেলাল বলেন, আসলে ইমার্জেন্সি কাজে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। নগরবাসীর বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতেই বাধ্য হয়ে এটা করতে হয়।