স্মার্ট কার্ড প্রকল্পে এখন দেশি প্রতিষ্ঠানই ভরসা। ফরাসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অবার্থুর টেকনোলজিস ব্যর্থ হয়েছে। যেখানে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলেছিল, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নয় কোটি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড (স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র) দেওয়া হবে।

কিন্তু গত জুন পর্যন্ত স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন মাত্র ২ লাখ ৫৭ হাজার ভোটার; যা মোট ভোটারের মাত্র ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানই বলছে, স্মার্ট কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে নেওয়া প্রকল্পটির অবস্থা কতটা করুণ।

তাই প্রকল্পে গতি আনতে এবার দেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর ভরসা রাখতে চায় ইসি। গত জুনে ওটির সঙ্গে ইসির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এ কারণে আপাতত ফাঁকা স্মার্ট কার্ড (ব্ল্যাঙ্ক কার্ড) সরবরাহ ও প্রক্রিয়াকরণ বন্ধ রয়েছে। অবশ্য ফরাসি প্রতিষ্ঠানটি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি বাড়াতে চায়। এ জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়েও যোগাযোগ করছে। তবে নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত, ওটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ছে না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় আর কোনো বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি না করে বাংলাদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসি কাজ করাতে চায়। দেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি ইতিমধ্যে ইসিকে কিছু নমুনা দিয়েছে। তিনি বলেন, সবার হাতে স্মার্ট কার্ড পৌঁছাতে একটু সময় লাগবে। তবে কত দ্রুত সবার হাতে কার্ড পৌঁছানো যায়, তাঁরা সে চেষ্টা করছেন।

২০০৭ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির সময় অতিরিক্ত (বাই প্রোডাক্ট) হিসেবে কাগজে ছাপানো একটি পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু এই পরিচয়পত্রটি মেশিন রিডেবল নয়। স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্লাস্টিক কার্ডে তৈরি, যা মেশিন রিডেবল। এর সঙ্গে একটি চিপ আছে। এখানে ব্যক্তির বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যের পাশাপাশি দশ আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি থাকবে।

প্রসঙ্গত, এই প্রকল্পের অধীনে স্মার্ট কার্ডের জন্য ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলজিসের সঙ্গে ইসির ৮১৬ কোটি টাকার (১০২ কোটি ডলার) চুক্তি হয় ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে দেশের নয় কোটি স্মার্ট কার্ড পারসোনালাইজেশন করে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাতে ব্যর্থ হয়। পরে চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে মাত্র ১ কোটি ৯৮ লাখ (১২ দশমিক ২০ শতাংশ) কার্ড পৌঁছাতে পেরেছে।