উত্তর কোরিয়ার সব থেকে ভরসার জায়গা চীনও রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞায় মত দিয়েছে৷ কিন্তু তার পরেও উত্তর কোরিয়া আমেরিকার উপর হামলা চালানোর হুমকি থেকে পিছু হটেনি৷ মার্কিন প্রশাসনও যে উত্তর কোরিয়াকে পাল্টা চাপে রাখতে পিছপা নয়, তা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইট থেকে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে৷

উত্তর কোরিয়া বলেছিল, তারা আমেরিকার গুয়াম লক্ষ্য করে পরমাণু হামলা চালাবে৷ প্রত্যুত্তরে ট্রাম্প টুইটে বলেছেন, আমেরিকা পরমাণু যুদ্ধের জন্য তৈরি আছে৷ চাইলে আমরা এক রাতেই উত্তর কোরিয়াকে শেষ করে দিতে পারি৷

পৃথিবীর সব থেকে বড় পরমাণু শক্তি এখনও আমেরিকাই৷ যদিও অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার ক্ষমতা দেখালেও উত্তর কোরিয়া পরমাণু হামলায় কতখানি সমর্থ তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেই যথেষ্ট সংশয় রয়েছে৷ এখনও পর্যন্ত কিম জং উনের উত্তর কোরিয়া যে কটি পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সেগুলির বেশিরভাগই আদৌ পরমাণু বোমা কিনা তা নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য পরমাণু শক্তিধর দেশই সন্দিহান৷

উত্তর কোরিয়ার একমাত্র লক্ষ্য দক্ষিণ কোরিয়াকে ধ্বংস করা৷ সেক্ষেত্রে কিম জং উনের পাগলামির ফল সেদেশের বাসিন্দাদের ভুগতে হতে পারে৷ তা বলে আমেরিকার গুয়ামের ঘাঁটিতে পরমাণু হামলা চালাবে উত্তর কোরিয়া, এর চাইতে হাস্যকর হুমকি আর কিছু হতে পারে না৷

কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনকে শিক্ষা দিতে মরিয়া৷ রাশিয়া ও চিন উত্তর কোরিয়ার পাশে দাঁড়াবে না, রাষ্ট্রসংঘে এই প্রতিশ্রুতি মেলার পরেই তিনি কার্যত যুদ্ধ ঘোষণার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছেন৷ পৃথিবীর সব দেশই জানে, আমেরিকা পরমাণু শক্তিতে সবার চাইতে এগিয়ে৷ তা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই হুমকি দিলেন কেন ? তার মানে কি সদ্যনির্মিত মার্কিন অস্ত্র প্রয়োগ করার জন্য তাঁর উপর ওই দেশের মিলিটারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবির প্রবল চাপ আছে? না হলে তিনি বি-ওয়ান বি’র কেরামতি দেখাবেন বলে টুইট করলেন কেন?

সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠছে৷ যদিও আমেরিকা এখন সব যুদ্ধই রিমোট কন্ট্রোলে চালায়, তবু ট্রাম্পের ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধে জেনারেল ম্যাকআর্থারের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে রাখা উচিত৷ অবশ্য তখন, উত্তর কোরিয়ার হয়ে যুদ্ধটা চালিয়েছিল মাওয়ের দেশ চিন৷ এবার বেজিং অন্তত বলেছে, পিয়ং ইয়ংয়ের পাশে তারা দাঁড়াচ্ছে না৷ সূত্র- কলকাতা ২৪।