এলাকায় যাতায়াতের পথ ছয়টি। এর পাঁচটিই বন্ধ। এতে একমাত্র মুক্ত পথটিতে হরদম লেগে আছে যানজট, জনজট। রাজধানীর হাটখোলা ও টয়েনবি সার্কুলার রোডে নর্দমা নির্মাণের কাজ চলতে থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অসময়ে বর্ষার মধ্যে কাজ শুরু করায় ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় এমন জনদুর্ভোগ চলছে।

 টয়েনবি সার্কুলার রোডে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। ছবিটি গতকাল মঙ্গলবার তোলা। ছবি: প্রথম আলোএলাকায় যাতায়াতের পথ ছয়টি। এর পাঁচটিই বন্ধ। এতে একমাত্র মুক্ত পথটিতে হরদম লেগে আছে যানজট, জনজট। রাজধানীর হাটখোলা ও টয়েনবি সার্কুলার রোডে নর্দমা নির্মাণের কাজ চলতে থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অসময়ে বর্ষার মধ্যে কাজ শুরু করায় ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় এমন জনদুর্ভোগ চলছে।

উন্নয়নকাজ চলছে ঠিকই, তবে এতে রয়েছে পুরোপুরি অব্যবস্থাপনা। এতে ভগবতী ব্যানার্জী রোড, শেরেবাংলার গলিসহ আশপাশের পুরো এলাকা অবরুদ্ধ। বৃষ্টি হলে পানি জমে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছয়টি পথের মধ্যে ইলিশিয়াম ভবনের দক্ষিণ দিকের পথ, অভিসার সিনেমা হলের বিপরীত দিকের দুটি পথ ও বঙ্গভবনের বিপরীত দিকে টয়েনবি সার্কুলার রোড প্রান্তে দুটি পথ বন্ধ। একমাত্র ইলিশিয়াম ভবনের উত্তর দিকের পথটি খোলা। এটি রিকশা ও যানবাহন ঠাসা। হেঁটে যাওয়াও খুব কঠিন। ওই পথে শেরেবাংলা বালিকা বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ভিড় ঠেলে যাতায়াত করছে। ওয়ারীর দিক থেকে যাঁরা রিকশায় আসছেন, বাধ্য হয়ে নেমে গিয়ে হাঁটার চেষ্টা করছেন।

স্বামীবাগ রাজধানী সুপার মার্কেটের দিক থেকে হাটখোলা প্রধান সড়ক ধরে যেসব যানবাহন আসছে, সেগুলোর গতি থেমে যাচ্ছে। কারণ, সড়কে মাটি ও নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে।

অভিসার সিনেমা হলের বিপরীত দিকে দুটি পথের একটি কিছুক্ষণের জন্য খুলে আবার বন্ধ করে দেওয়া হলো। কারণ, নর্দমার কাজ যেটুকু হয়েছে, ভেঙে যেতে পারে। সেখানে মামুন প্লাজায় থাকেন তাজুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী। বললেন, গাড়ি বের করার উপায় আগেই বন্ধ। এখন ঘর থেকে বেরোনোও মুশকিল হয়ে গেছে। সকাল সাতটার দিকে ছেলেকে আইডিয়াল স্কুলে নেওয়ার জন্য বেরিয়েছেন, দেখলেন একজন ভদ্রমহিলার গলায় ক্ষুর ঠেকিয়ে আছে এক ছিনতাইকারী। গয়না খুলে নিচ্ছে অপর দুজন। তাঁর বাচ্চা তো বটেই, তিনিও ভয় পেয়েছেন।

টয়েনবি সার্কুলার রোডের শুরুতে অগ্রণী ব্যাংকের পাশের রাস্তাটি বন্ধ থাকায় ভেতরে রাসায়নিক সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলোতে চলছে মন্দাভাব। সেখানে মামুন ম্যানশনের পাঁচজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, বৃষ্টির মধ্যে চলছে নর্দমা তৈরি কাজ। ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ঝামেলার মধ্যেও দোকান খোলেন। কিন্তু যাতায়াতের দুর্ভোগের জন্য ক্রেতারা আসতে চান না