যুদ্ধ এড়াতে চাইলে ডোকলাম থেকে সেনা সরিয়ে নিতে হবে ভারতের, নয়ত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া আহ্বান জানালো চীন। এ বার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিজেদের এলাকা’কে রক্ষা করতে চীনের সেনা স্থির এবং দৃঢ় সঙ্কল্প- পিপলস লিবারেশন আর্মির সিনিয়র কর্নের লি লি বেজিঙের হুয়াইরোউ সেনা ছাউনিতে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে ভারতীয় সাংবাদিকদের সোমবার এ কথা বলেছেন বলে নিউজ ১৮ সূত্রের খবর। ডোকলাম সঙ্কটের বিষয়ে চীনের সেনা কী ভাবছে, ভারতীয় সাংবাদিকরা তা রিপোর্টও করতে পারেন, এমন মন্তব্যও করেছেন লি লি।

চীনা সরকারের খরচেই উত্তর বেজিঙের হুয়াইরোউ সেনা ছাউনিতে গিয়েছেন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। এই সেনা ছাউনি চীনের সবচেয়ে পুরনো ছাউনিগুলির মধ্যে অন্যতম তো বটেই। রাজধানী বেজিঙের নিরাপত্তার দায়িত্বও এই ছাউনির উপরে রয়েছে।

এ হেন সামরিক শিবিরে ভারতীয় সাংবাদিকদের সফর উপলক্ষে চীনা বাহিনীর সক্ষমতা প্রদর্শনের বিশেষ আয়োজন হয়েছিল। তবে ভারতীয় সাংবাদিকদের সামনে চীনা বাহিনীর সক্ষমতা দেখানোর এই আয়োজনের সঙ্গে ডোকলাম সঙ্কটের কোনও সম্পর্ক নেই বলে পিএলএ-র তরফে জানানো হয়েছে।

সরকারি ভাবে পিএলএ যা-ই বলুক, চীন সফররত ভারতীয় সাংবাদিকদের সামনে চীনা সেনার পদস্থ কর্তা যে বয়ান দিয়েছেন, তা কিন্তু যথেষ্ট কড়া। সিনিয়র কর্নেল লি লি বলেছেন, ”আমি একজন সৈনিক এবং আমি আমার দেশের আঞ্চলিক সংহতি রক্ষা করার জন্য সব রকম চেষ্টাই করব। সে বিষয়ে আমরা স্থিরসঙ্কল্প এবং দৃঢ় সঙ্কল্প।”

ভারতীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশে লি-এর বার্তা, ”চিনা সেনা যে এ রকম ভাবছে, সে কথা আপনারা প্রতিবেদনে লিখতেও পারেন।” চীনা পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের সুরে সুর মিলিয়ে সিনিয়র কর্নেল লি লি দাবি করেছেন, ডোকলামে ভারতীয় সেনা চীনের এলাকায় অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশ করেছে।

যদি ভারত ডোকলাম থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে, তা হলে চীন কী করবে? প্রশ্ন ছিল লি-এর প্রতি। তিনি বলেন, ”পিএলএ কী করবে, তা ভারতের পদক্ষেপের উপর নির্ভর করছে। যখন প্রয়োজন মনে করব, আমরা উপযুক্ত পদক্ষেপই করব।” অর্থাত্‍, লি-এর প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি- ভারত সেনা প্রত্যাহার করলে সমস্যা নেই। কিন্তু না করলে চিন সামরিক পদক্ষেপ করবে।

ভারতীয় সাংবাদিকদের সামনে পেয়ে চীনা সেনার পদস্থ কর্তা সোমবার যা বলেছেন, তা নতুন কিছু নয়। চীনা পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় এবং সংবাদমাধ্যম প্রায় রোজই এমন হুমকি দিচ্ছে। ভারত ডোকলামের সীমান্তের কাছে বিপুল সৈন্য সমাবেশ করেছে বলেও চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় দাবি করছে।