পরীক্ষা খারাপ দেয়ায় ছেলে প্রিতমকে বকাঝকা করেন মা দীপা রানী ভৌমিক। সে কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ধারালো বঁটি দিয়ে মাকে জবাই করে হত্যা করে প্রিতম ভৌমিক। হত্যাকাণ্ডের ২৬ দিনের মাথায় মূল রহস্য উদ্ঘাটন করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার আমেনা বেগমের নির্দেশনায় মামলাটির ছায়া তদন্ত করতে গিয়ে মূল ঘটনার উন্মোচন করেন তিনি। গত শুক্রবার মাকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে নবম শ্রেণীর ছাত্র প্রীতম ভৌমিক। জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন আদালত।
নরসিংদী পুলিশ জানায়, গত ৮ জুন নরসিংদী শহরের দেশপ্রিয় রোডে গলা কেটে হত্যা করা হয় গৃহবধূ দীপা রানী ভৌমিককে। নরসিংদী সদর মডেল থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপার এ হত্যা মামলার ছায়া তদন্তের নির্দেশ দেন জেলা গোয়েন্দা শাখাকে। এর পর জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছেলে প্রীতমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে প্রিতম মাকে হত্যার কথা স্বীকার করে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, ছেলে প্রীতমকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এনে প্রথমে তার মার রক্তাক্ত মরদেহের ছবি দেখানো হয়। এ ছবি দেখে সে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পড়ে কৌশলে জিজ্ঞাসা করা হয় কেন মাকে হত্যা করেছে। এতে সে অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। প্রথমে সে অস্বীকার করলেও একটা সময় সব স্বীকার করে হত্যার বর্ণনা দেয়। তার পর তাকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ছেলে প্রীতম বিভিন্ন ধরনের নেশা গ্রহণ করত।
পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন, চাঞ্চল্যকর দীপা রানী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ছেলে মাকে হত্যা করতে পারে বিষয়টি অভাবনীয়। আমরা অন্যান্য মোটিভ নিয়ে তদন্ত করছিলাম। পরিচিত কিংবা পরিবারের লোকদের ধারাই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছিল। সে কারণে আমরা পরিবারের সদস্যদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলাম। বিভিন্নভাবে তদন্তের একপর্যায়ে তার ছেলেকে সন্দেহ করি আমরা। তার পর কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকার করে।





