বিভ্রান্তকর ভয়েস ও ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সাথে আর প্রতারণা করতে পারবে না মোবাইল অপারেটররা। প্রতারণা বন্ধে এরই মধ্যে অনুমোদন দেওয়া বেশ কিছু প্যাকেজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

এর পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের নতুন কোনো প্যাকেজ অনুমোদন দিচ্ছে না বিটিআরসি।

বিভ্রান্তকর ভয়েস ও ইন্টারনেট প্যাকেজসহ মোবাইল অপারেটরদের সেবা নিয়ে বিটিআরসির গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন কোনো প্যাকেজ অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি।

অভিযোগে বলা হয়, ভয়েস কলের ক্ষেত্রে পালস ও কলরেটের ভিত্তিতে অপারেটরদের বিভিন্ন নামের প্যাকেজ চালু রয়েছে। এছাড়া ডাটাভিত্তিক সেবার জন্য ডাটা ভলিউম ও মেয়াদ বিবেচনায় আলাদা আলাদা প্যাকেজ রয়েছে অপারেটরদের। গ্রাহকদের অভিযোগ, একই ধরনের অনেক প্যাকেজ চালু করলেও তার মধ্যে নিজের প্রয়োজনীয় প্যাকেজটি পাওয়া যায় না। ফলে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন তারা।

এসব কিছু বিবেচনা করেই বিটিআরসি নতুন করে সকল ধরনের ভয়েস ও ইন্টারনেট প্যাকেজের অনুমোদন বন্ধ রেখেছে। তবে কবে নতুন করে বিটিআরসি আবার প্যাকেজ অনুমোদন দিতে শুরু করবে সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি।

এদিকে গত বছর বিটিআরসির গনশুনানিতে অংশ নিতে এক হাজারের বেশি মানুষ আবেদন করলেও শুনানিতে ডাকা হয় চার শতাধিক আবেদনকারীকে। গণশুনানিতে সরাসরি অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান ৩৪ জন। অপারেটরদের কল ও ডাটার মূল্য কমানো, গ্রাহক প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধ, অযাচিত এসএমএস প্রদান বন্ধ করাসহ নেটওয়ার্ক সেবার মানোন্নয়নের দাবি জানান অধিকাংশই গ্রাহক।

গণশুনানিতে মোবাইল ফোন অপারেটরদের কল ড্রপ ও বিভিন্ন প্যাকেজের (ভয়েস ডাটা, বান্ডেল) মূল্য সম্পর্কে অভিযোগ ছাড়াও বায়োমেট্রিক সিম, সাইবার অপরাধ, সেলফোনে হুমকি, ফেসবুক ব্যবহার নিরাপত্তাসহ সেলফোন সেবাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন গ্রাহকরা।

অপরদিকে গত জুন থেকে প্যাকেজ অনুমোদন বন্ধ রেখেছে কমিশন। জুন-আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২২টি প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও বিটিআরসি তা ঝুলিয়ে রেখেছে।