দই খাওয়া অনেকের বেশ পছন্দের হলেও টক দই অনেকেই খেতে চান না। দই বলতে আমরা মূলত বুঝি মিষ্টি বা টক-মিষ্টি দই। কিন্তু স্বাদের দিক থেকে একটু কম হলেও টকদই আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বেশ কার্যকরী। এটি মিষ্টি এবং টক-মিষ্টি দইয়ের চাইতে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো।

প্রতিদিন মাত্র ১ কাপ টকদই খাওয়ার অভ্যাস নানা শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে খুব সহজেই। যদি টকদই এমনি খেতে পছন্দ না করতে পারেন তাহলে এতে কিছু ফল কেটে দিয়ে খেয়ে ফেলুন, এতেও কাজ দেবে।সব বয়সের মানুষের জন্যই স্বাস্থ্যকর একটি খাবার হলো টক দই। শুধু তাই নয়, মজাদার বিভিন্ন রান্নাতেও টক দই না দিলে মনে হয় কী যেন বাকি রয়ে গেলো।

দই তৈরি করতে অনেকেই ভয় পান, ভাবেন কী না কী দরকার হবে। অনেকে আবার দই তৈরির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আর ওমুখো হন না। এখানে যে রেসিপি দেওয়া হলো, তা অনুসরণ করলে নিতান্ত আনাড়ি রাঁধুনিও তৈরি করে ফেলতে পারবেন নিখুঁত দই। আর এর জন্য খুব বেশি উপাদানেরও দরকার হবে না।খুব অল্প খরচে, অল্প সময়ে ঘরেই বানাতে পারেন টক দৈ।

উপকরণ

– এক লিটার দুধ
– এক চামচ দই
– মাটির ছোট দুটি ভাঁড়

প্রণালী

একটি নন-স্টিক সসপ্যানে দুধ ঢেলে চুলোয় একটু গরম করে নিন। সাবধান, দুধ ফুটাবেন না কিন্তু! সামান্য গরম করতে হবে শুধু। এমনভাবে গরম করবেন যাতে এর মাঝে আঙ্গুল ডুবিয়ে দেখা যায় গরম হয়েছে কী না। খাবারে ব্যবহারের থার্মোমিটার থাকলে দেখে নিন ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হয়েছে কি না। গরম হলে চুলা নিভিয়ে দিন।
এরপর এই গরম করা দুধ মাটির ভাঁড় দুটোয় ঢেলে নিন। এক্ষেত্রে মাটির ভাঁড় ব্যবহার করা ভালো কারণ তাতে দই থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয় যাবে আর দই খুব ভালো জমবে। মাটির ভাঁড় না থাকলে, কাঁচ, প্লাস্টিক বা স্টিলের বাটিতেও দই জমাতে পারেন।
এবার এই মাটির ভাঁড়ে থাকা দুধের মাঝে সামান্য পরিমাণ দই দিতে হবে। চা চামচের মাথায় করে সিকি চামচ দই দুধের মাঝে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এটা ভালো করে মনে রাখবেন যে দই পাতার জন্য পুরনো দই ব্যবহার করাটা জরুরী। নিজের বাসায় না থাকলে অন্তত প্রতিবেশীর বাসা থেকে এক চা চামচ দই নিয়ে আসুন। খুব অল্পই প্রয়োজন হবে।
এরপর দই পাতা পাত্র রেখে দিন কক্ষ তাপমাত্রায়। কিচেন কেবিনেটে রাখতে পারেন বা একটি বড় বোল চাপা দিয়ে টেবিলেও রাখতে পারেন। তবে অবশ্যই উষ্ণ জায়গায় রাখতে হবে। ঠাণ্ডা জায়গায় রাখা যাবে না। আর ফ্রিজে তো রাখাই যাবে না।
এভাবে ৬-৮ ঘন্টা রেখে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে দই। শীতকালে আরেকটু বেশি সময় রাখতে পারেন। গরমকালে আরো কম সময় লাগতে পারে। তবে এর ওপর নজর রাখা জরুরী। কারণ গরমকালে বেশি সময় বাইরে রেখে দিলে দই টকে নষ্ট হয়ে যাবে। যখন দেখবেন দই জমে গেছে, তখন একে ফ্রিজে রাখতে পারেন, রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন অথবা খেয়ে নিতে পারেন তখনই।

টক দই খাওয়ার উপকারিতা গুলো হচ্ছে :
১. এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়| ঠান্ডা লাগা , সর্দি ও জ্বর না হওয়ার জন্য এটি ভালো কাজ করে

২. টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে

৩. এতে lactic acid থাকার কারণে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া ও কোলন cancer এর রোগীদের জন্য উপকারী

৪. দইয়ের ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়ক| তাই এটি পাকস্থলী/ bowel র ও জ্বালাপোড়া কমাতে বা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে|

৫. এতে প্রচুর calcium, riboflavin, vitamin B6,B5 ও vitamin B12 থাকার কারণে এটি খুব দরকারী একটি খাবার|

৬. এতে প্রচুর calcium ও vitamin D থাকার কারণে হাড় ও দাঁতের গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে

৭. তাই Osteoporosis, Arthritis এর রোগী রা নিয়মিত টক দই খেলে উপকার পান

৮. কম ফ্যাট যুক্ত টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল কমায়|
যাদের দুধ সহ্য হয় না বা lactose intolerance আছে, তারা টক দই দুধের বিকল্প হিসাবে খেতে পারেন| কারণ দইয়ের ব্যাকটেরিয়া lactose কে ভেঙ্গে lactic acid তৈরী করে|

৯. এর আমিষ দুধের চেয়ে সহজে হজম হয়, এটি দুধের চেয়ে অনেক কম সময়ে হজম হয়| তাই যাদের দুধের হজমে সমস্যা তারা দুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন

১০. টক দই রক্ত শোধন করে

১১. উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন

১২. ডায়বেটিস, হার্টের অসুখ এর রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন

১৩. নিয়মিত টক দই খেলে তা অন্য খাবার থেকে পুষ্টি নিয়ে শরীরকে সরবরাহ করে |

১৪. কম ফ্যাট যুক্ত টক দই একটি ভালো স্ন্যাকস, কারণ এটি খেলে পেট ভরা বোধ হয় | তাই পুষ্টিহীন খাবার বা বেশি ক্যালরি যুক্ত junk food না খেয়ে পুষ্টিকর টক দই খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে| কারণ এতে আমিষ থাকে, যেহেতু আমিষ হজম হতে সময় লাগে, তাই পেট ভরা বোধ হয় ও শক্তি পাওয়া যায় | অতিরিক্ত খাবারও খেতে ইচ্ছা করে না|

১৫. এর পুষ্টি উপাদানগুলো হজমের সময় তাড়াতাড়ি শরীরে শোষিত হয়ে দ্রুত শরীরকে শক্তি দেয়

১৬. এটা ব্রেইনকে tyrosine সরবরাহ করে, যা মানসিক প্রশান্তি দেয় এবং ক্লান্তি কমায়|

১৭. এতে প্রচুর calcium থাকার কারণে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে| কারণ সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে যে, শরীর যখন প্রচুর calcium পায়, তখন তা ওজন কমাতে সাহায্য করে| আর যখন calcium পায় না, তখন শরীরে ফ্যাট জমতে থাকে|

১৮. টক দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে | তাই গ্রীষ্মকালে টক দই খেলে ভালো|

১৯. টক দই শরীরে টক্সিন জমতে বাধা দেয় | তাই অন্ত্রনালী পরিষ্কার রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ বা অকাল বার্ধক্য করে| শরীরে টক্সিন কমার কারণে ত্বকের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়

২০. স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকে আপনার