বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামনির (১২) প্রথম অস্ত্রপচার সম্পন্ন হয়েছে। অস্ত্রপচারে বায়োপসির জন্য তার হাত থেকে টিসু নেওয়া হয়েছে। বায়োপসি রিপোর্ট আসার পর আগামী সোমবার মেডিক্যাল বোর্ড পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়।সকাল ১০টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পরপরই তার জ্ঞান ফেরে। তাকে কেবিনে রাখা হয়েছে। সন্ধ্যা নাগাদ তাকে ওয়ার্ডে দেওয়া হবে।
বার্ন ইউনিটের অধ্যাপক আবুল কালামের নেতৃত্বে আটজন চিকিৎসক অস্ত্রোপচারে অংশ নেন। চারজন ছিলেন অবেদনবিদ।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৮টায় তাকে অস্ত্রপচার কক্ষে নেওয়া হয়। পরে ৯টার দিকে আমরা অস্ত্রপচার শুরু করি। তার হাত থেকে বায়োপসি করতে টিসু নেওয়া হয়েছে। আমরা এগুলো পরীক্ষা করতে পাঠাবো।
বার্ণ ইউনিটের প্রধান আবুল কালাম বলেন, টিসু সংগ্রহ করতে আমাদের তেমন কোনো অসুবিধা হয়নি। কোনো জটিলতাও দেখা দেয়নি। সফলতার সঙ্গে আমরা তার টিসু সংগ্রহ করতে পেরেছি। মুক্ত ভালো আছে। বায়োপসি রিপোর্ট আসার পর আবার মেডিক্যাল বোর্ড আগামী সোমবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
অস্ত্রোপচার কক্ষে যাওয়ার সময় মুক্তামনি জানায়, আমার জন্য দোয়া করবেন সবাই।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তামণিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার বি.কে টাং তার অস্ত্রোপচারে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপরই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল তার অস্ত্রোপচারের উদ্যোগ নেয়।
এবিষয়ে ডা. সামন্ত লাল বলেন, গেলো মাসের ২৪ ও ২৫ তারিখ তার রোগ বিষয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বি. কে ট্যাংয়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা কথা হয়। ভিডিওতে মুক্তামণিকে দেখানো হয়। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাগজপত্রও দেয়া হয়। কিন্তু ২৮ জুলাই ডাক্তার বি.কে ট্যাং সাফ জানিয়ে দেন তাদের পক্ষে মুক্তামণির চিকিৎসা করা সম্ভব নয়।
সামন্ত লাল সেন বলেন, ১২ বছর বয়সী মুক্তামণি প্রায় ১ মাস ধরে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। তার ডান হাতে গাছের ছালের মতো বিরাট একটি স্তূপ রয়েছে, যার ওজন প্রায় ৮/১০ কেজি হবে। একই সঙ্গে এ রোগটি তার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেনের মেয়ে মুক্তামনি(১২)। জন্মের দেড় বছর পর মুক্তামনির দেহে একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। সম্প্রতি মুক্তামনির এই বিরল রোগ নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গেলো ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে ৬০৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।





