চট্টগ্রাম কোর্ট হিলে অবস্থিত অ্যাডভোকেট ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনস কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে এক হাজারের অধিক মামলার ফাইল জব্দ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদ।
আইনজীবীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সমিতির ‘টাউট উচ্ছেদ কমিটি’ এই অভিযান পরিচালনা করে আজ বুধবার দুপুরে।
অভিযানে বিভিন্ন ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলার ফাইল, মামালার তথ্য সম্পর্কিত ডাইরি ও বিভিন্ন ডকুমেন্ট জব্দ করা হয়।
এই সম্পর্কে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি বিমল চন্দ্র বলেন, আমরা সম্মানিত আইনজীবীদের ক্লার্ক হিসাবে কাজ করি। আমাদের মামলা পরিচালনা কিংবা মামলার ফাইল সংরক্ষণ করার কোন সুযোগ নেই। এখানে যেই সমস্ত মামলার ফাইলগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো হচ্ছে আইনজীবীদের, ক্লার্কদের নয়। আইনজীবীরা নিজেদের মামালা পরিচালনার সুবিধার্থে এই ফাইলগুলো ক্লার্কদের কাছে রাখে। ক্লার্করা সেগুলো এনে এইখানে অফিসে রাখে। দুই হাজারের মতো রেজিস্টার্ড ক্লার্ক আছে। তাদের অনেকেই নিজেদের আইনজীবীদের ফাইল রেখেছে। যার কারণে এগুলো পাওয়া গেছে।
অ্যাডভোকেট ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেক্রেটারি
আইনজীবী সমিতিতে নিজেদের অভিভাবক আখ্যায়িত করে বিমল চন্দ্র আরো বলেন, আমরা অতীতে সমিতির যে কোন সিদ্ধান্ত মেনেছি। মানতে বাধ্য এবং মেনে চলব।
ক্লার্কদের এই অফিস কি কাজে ব্যবহার হয়? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে ক্লার্ক সভাপতি বলেন, অ্যাডভোকেট ক্লার্করা অবসরে এইখানে এসে মিলিত হন। গল্প-গুজব করেন। চা-নাস্তা খান। কোন মামলার বিষয়ে কোন ক্লায়েন্ট বা মক্কেলের সাথে কথা বলেন না।
অভিযোগের সুরে অ্যাডভোকেট ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ বলেন, আমাদের সংগঠনের সরকারি অনুমতি না থাকলেও সারা বাংলাদেশের আদালত সমূহে এই সংগঠন আছে। আমাদের সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন আইনমন্ত্রী, বিচারপতি, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত থাকেন। আমাদের চট্টগামের এই ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশন অনেক পুরোনো। আমারা আইনজীবী সমিতির নির্দেশনা মতো কাজ করি। যখন যেটা বলে সেটা করি। কিন্তু এই অভিযানের আগে আমাদের কোন নোটিশ বা পূর্ব সতর্কতা করা হয়নি। যদি করা হতো তাহলে আমরা ক্লার্ক সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে জানিয়ে দিতাম। আর একটা কথা হচ্ছে, এইখানে যেই ফাইলগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো পরিচালনা করতে সেই সমস্ত আইনজীবী সহযোগিতা করে তাদের কি বিচার হবে ?
চট্টগ্রাম জেলা আইনলজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন কুমার রায় বলেন, মামলার ফাইল থাকবে আইনজীবীর চেম্বারে। মক্কেলদের সাথে আইনি পরামর্শ এবং যাবতীয় কাজ হবে আইনজীবীর চেম্বারে। সেখানে কর্মচারী হিসাবে অ্যাডভোকেট ক্লার্কদের মামলা পরিচালনা করা, মামলার ফাইল সংরক্ষণ করা, ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলা কোন সুযোগ নেই। ক্লার্করা নিজেরাই বিশাল অফিস করে, চেয়ার টেবিল বসিয়ে মামালার ফাইল রাখা, মামালা চালানো এবং ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলা হচ্ছে টাউট।
আইনজীবীদের অভিভাবক হিসাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছি উল্লেখ করে আইনজীবী সমিতির সভাপতি আরো বলেন, এই মুন্সিরা অনেকেই বলে, ওরা নাকি উকিল চালায়! উকিলদের মামলা দেয়! এটা কতবড় অসম্মানের বিষয়! কতবড় স্পর্ধা থাকলে মুন্সিরা এসব কথা বলে? আইনজীবী সমাজের মান-মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার্থে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণকে এ সমস্ত টাউটদের হয়রানি থেকে রক্ষা করতে এই অভিযান চালিয়েছি। আইনজীবীদের স্বার্থে এবং মহান আইন পেশাকে সমুন্নত রাখতে আমি কোন রক্ত চোখকে ভয় করি না। ভবিষ্যতে আইনজীবীদের কল্যাণে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগ লাগবে যা যা করার দরকার সব পদক্ষেপ নিব।
চট্টগ্রাম আদালতে টাউটদের দৌরাত্ম রুখতে পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হয়ে সমিতির দায়িত্ব পাওয়ার পর সহ সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে টাউট উচ্ছেদ কমিটি গঠন করি। কমিটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন টাউটকে হাতে নাতে প্রমাণসহ ধরে করে মামলা দিয়েছি। অনেক চাপ এবং প্রভাবশালীদের কথায় নিভৃত থাকিনি। টাউটদের জেলে যেতে হয়েছে। টাউট উচ্ছেদ অভিযান চলবে।
এদিকে আইনজীবী সমিতির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আইনজীবীগণ। জাগ্রত আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট টি আর খান সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে এই ধরনের অভিযান প্রথম। আমরা এজন্য বর্তমান কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। এবং যে সমস্ত আইনজীবী মুন্সিখানার টাউটদের পৃষ্ঠপোষকতায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান করছি।





