সদরঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীতে ৪০ বছর ধরে নৌকা চালাই। বাবা, মা, স্ত্রী-সন্তান কেউই নেই। এই বুড়িগঙ্গাই এখন আমার সুখ দুঃখের সাথী। এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন বুড়িগঙ্গা নদীর নৌকার মাঝি কাদের মিয়া।

কাদের মিয়ার (৫০) বাড়ি বরিশাল ৭ বছর বয়সে বাবা মা মারা যাবার পর ঢাকার সদরঘাটে চলে আসেন।

তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, আজ ৪০ বছর যাবত এ নৌকা চালাচ্ছি। ১০ বছর বয়সে নৌকায় চড়েছি আজও নামা হয়নি। মৃত্যুর আগে মনে হয় নামা হবে না।
তিনি বলেন, বাবা-মা, স্ত্রী কেউ নাই। একা একা ভালোই আছি।তবে চিন্তা হয় মরার পর আমার জন্য কেউ কাঁদবে না।

বিয়ে করছিলেন কিনা আর কেন বিয়ে করছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিয়ে করেছিলাম সংসারও পেতেছিলাম। বিয়ের পর আমাদের বাচ্চা হচ্ছিলোনা তারপরেও আমরা সুখি ছিলাম কিন্তু চার বছর সংসার করার পর স্ত্রী চলে যায়। তাই আর বিয়ে করা হয়নি।

দিনে কত টাকা ইনকাম করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দিনে ইনকাম হয়।এর মধ্য নৌকা ভাড়া দিনে ৫০ টাকা, দুই বেলায় খাই ১২০ টাকা, আর রুম ভাড়া মাসে ৫০০ টাকা দিতে হয়।

কথা হয় আরেক নৌকার মাঝি আনিছ এর সাথে, আনিছ ৩০ বছর থেকে বুড়িগঙ্গায় নৌকা চালায়। তার বাড়ি পটুয়াখালী তার পরিবারে দুই মেয়ে এক ছেলে ও তারা স্বামী-স্ত্রীসহ মোট ৫ সদস্যের পরিবার ।

তিনি বিডি২৪লাইভকে বলেন, দুই মেয়ে বিয়ে দিছি। এখন আমার সংসারের সদস্য আমরা তিন জন।নৌকা চালিয়ে যা ইনকাম করতে পারি তা দিয়ে সংসার চালাতে হয়। দিনে কত টাকা ইনকাম জানতে চাইলে তিনি বলেন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ।

বুড়িগঙ্গার পানি দূষিত রোগ বা অসুস্থ হয়ে পরেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম প্রথম খারাব লাগতো। এখন আর তেমন কিছু হয় না। শরীরটা সব কিছু মেনে নিয়েছে।
যাত্রীরা খারাব ব্যবহার করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না কেউ খারাব ব্যবহার করে না।
এপাড় থেকে ওপাড়ে ভাড়া কত জানতে চাইলে বলেন, ৫ টাকা আর এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে ২০ টাকা, আর কেউ ঘুরতে চাইলে ঘন্টায় ১০০ টাকা করে নিয়ে থাকি।