চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি স্কুলে ভরা জোয়ারের সময় শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে পানি। বিঘ্নিত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। জোয়ারের পানির মধ্যে ক্লাস করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ছে চরম দুর্ভোগে।

এ অবস্থায় জোয়ার-ভাটার সময় দেখে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে ওই সব স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে চরম দুর্ভোগে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও জোয়ারের পানির মধ্যে ক্লাস চলায় সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থীর অভিভাবক।

তবে অভিভাবকরা সন্তানদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন। একেতো জোয়ারের পানিতে থাকে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু, অন্যদিকে সাপের ভয়, ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

হাটহাজারীর মধ্য মাদার্শা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেহেনা পারভীন জানান, জোয়ারের পানিতে স্কুলের নিচতলায় কোমরসমান পানি উঠে যায়। বিশেষত ভরা জোয়ারের সময় আমাদের প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুপুরের দিকে জোয়ার আসার আগেই অভিভাবকরা দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ছেলেমেয়েদের স্কুল থেকে নিয়ে যায়।

‘গত সপ্তাহে খুব বেশি জোয়ারের পানি এসেছিল। তখন ৫ম শ্রেণির পরীক্ষা চলছিল। তাদের স্কুলে রেখে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুপুরের আগে ছুটি দিয়েছিলাম। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভাটা হলে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা শিক্ষকসহ স্কুল ত্যাগ করি। পশ্চিম মাদার্শা প্রাইমারি স্কুলে তো যাওয়াই যায় না। স্কুলে যাওয়ার রাস্তাই পানিতে ডুবে যায়।’

কর্ণফুলী উপজেলার পশ্চিম চরপাথরঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম জানান, বর্ষা মৌসুম আসলে স্কুলের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। জোয়ারের পানিতে স্কুলের নিচতলায় প্রায় ৪ ফুট পানি উঠে। স্কুলের ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী খুব দুর্ভোগে পড়ে যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচাতে শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দিই। বিশেষ করে ভরা জোয়ারের সময় আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। তবে ওই সময়ে অভিভাবকরাও ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠান না। যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে আসে তাদের জোয়ার-ভাটা হিসেব করেই পাঠদান কর্মসূচি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তবে ভরা জোয়ারের সময় স্কুল ছুটি দিয়ে দিই। এছাড়াও স্কুলের দুটি ভবনের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

একইভাবে জোয়ারের পানিতে দুর্ভোগে রয়েছে আনোয়ারা উপজেলার আলহাজ ফজলুল কাদের চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫৭ শিক্ষার্থীও। এ স্কুলেও জোয়ারের সময় নিচতলায় পানি ঢুকে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটে।

প্রধান শিক্ষিকা ঝর্ণা চক্রবর্তী জানান, ভরা জোয়ারের সময় স্কুলের ভিতরে প্রায় ৩ ফুট পানি উঠে। স্কুলের আঙ্গিনায় কোমর সমান পানি উঠে যায়। কিছুদিন যখন জোয়ারের পানি অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছিল, তখন এরচেয়েও বেশি পানি উঠে যায় স্কুলে। এসময় স্কুলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আলমিরা নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের কয়েকদিন জোয়ার-ভাটার সময় দেখে স্কুলের পাঠদান চালাতে হয়েছে। অনেক অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠালেও আতঙ্কে থাকেন। বিষয়টি লিখিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা জানান, জেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি স্কুলে জোয়ারের পানি উঠার বিষয়ে মৌখিকভাবে শুনেছি। কিন্তু ওই সব স্কুলে পানির ঢুকে পড়ার ছবিসহ লিখিতভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা প্রয়োজন। তখন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি জেলা অফিসকে জানালে অধিদপ্তরকে অবহিত করা হবে। এক্ষেত্রে বরাদ্দের বিষয় আছে। সেখানে সাইক্লোন সেন্টার কাম স্কুল করা যেতে পারে। বিষয়টি সম্পূর্ণ অধিদপ্তরের।