অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। আসামিদের নিম্ন আদালত দৃষ্টান্তমূলক যে সাজা দিয়েছেন, তা বহাল থাকা উচিত।
আজ বুধবার দুপুরের পর সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাত খুনের মামলায় হাইকোর্টের রায়ের দিন ধার্য হওয়ার বিষয়ে মাহবুবে আলম এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর সাত খুন হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট রায় ঘোষণা করা হবে। আমরা শুনানিতে বলেছি, যে ধরনের খুন এরা করেছে, এটা ক্ষমার অযোগ্য। নিম্ন আদালত তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিয়েছেন, সেটাই বহাল থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, নজরুল ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে নূর হোসেন এই খুনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং পরবর্তী সময় নজরুল ইসলামকে খুন করতে গিয়ে বাকিদের খুন করে ফেলেন। এর সঙ্গে একজন আইনজীবীও প্রাণ হারিয়েছেন, যা খুবই দুঃখজনক। এ রকমভাবে দিনে-দুপুরে মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যেভাবে মেরে ফেলা হয়েছে, যে কায়দায় মারা হয়েছে, তার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। এদের মারতে হবে, এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সাতদিন আগে। টিম ঠিক করা হয়েছে সাতদিন আগে। যেদিন তাদের মারার জন্য ধরা হবে, সেদিন যে সমস্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে কাজ করানো হবে তাদের নিয়ে গাড়ি রওনা হয়েছে। ধরার বাহানা করে তাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে নরসিংদী নিয়ে ফের নারায়ণগঞ্জ না এনে ট্রলারে করে মেঘনা নদীর মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘বস্তাভর্তি ইট, বালু লাশের সঙ্গে বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল যেন হত্যাকাণ্ডের কোনো নিশানাও না পাওয়া যায় এবং লাশ যাতে কোনোভাবে ভেসে না ওঠে। এ ধরনের প্রিপ্ল্যান এবং সিস্টেমেটিক মার্ডার বাংলাদেশে আগে হয়েছে বলে আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, শাস্তিটা বহাল থাকা প্রয়োজন এই জন্য, যেহেতু এ হত্যার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য জড়িত আছেন। এতে জনগণ বুঝবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না- সে যে বাহিনীই হোক, যে লোকই হোক না কেন। এটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ। আইনের চোখে সবাই সমান।
গত ১৯ জুলাই সাত খুন মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আর্জি জানান।
চলতি বছরের ২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়।
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেনসহ আসামিদের নিয়মিত ও জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট।
গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ আসামিরা খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন।
১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের মামলায় সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি নয় আসামির সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। নিহত অন্যরা হলেন—নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।
ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।





