ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও উপকূলীয় জোয়ার-ভাটার কারণে কক্সবাজারের গ্রামীণ জনপথগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। রাস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামে বসবাসরত লোকজন।
এ ছাড়াও পাহাড়ি ঢলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কয়েকটি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতি বছর স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়কগুলো (কাঁচা-পাকা) নির্মাণ ও সংস্কার করে বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও তা টেকসই না হওয়ার কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরো অনেক সড়ক।
মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, এখন মাতারবাড়ির সাথে অন্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মাতারবাড়ির সংযোগ সড়কটি কয়েক দফা মেরামত করলেও জোয়ার-ভাটার কারণে ভেঙে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহে এটি এই মৌসুমে তৃতীয় দফা ভেঙে পড়েছে। ফলে মাতারবাড়ির মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। মাতারবাড়ির সাথে নৌ-পথে ছাড়া অন্য কোনো পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সবাইকে। রোগী যাতায়াত নিয়েও বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া মাতারবাড়ির প্রতিটি রাস্তা এখন অচল হয়ে পড়েছে।
ধলঘাটা আওয়ামী লীগের নেতা সেলিম রেজা জানিয়েছেন, জোয়ার-ভাটা বন্ধ না হওয়ায় সড়কগুলো প্রতি বছর নির্মাণ করতে হয়। মূল সমস্যা ভেড়িবাঁধ। স্থায়ী ভেড়িবাঁধ নির্মিত হলে প্রতি বছর গ্রামীণ সড়ক সংস্কার খাতে অনেক অর্থ সাশ্রয় হবে। এই সপ্তাহে বেঁধে আসলে এর পরের সপ্তাহে ভেঙে যায়। রাস্তার দু’পাশে গাইড ওয়াল না দিলে সামান্য বৃষ্টিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাস্তা।
রামু ঈদগড়ের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টু জানিয়েছেন, সম্প্রতি বন্যায় রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। যার অধিকাংশই ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছিল, কিন্তু গত কয়েক দিনের বর্ষণে অধিকাংশ রাস্তা ভেঙে গেছে।
কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইলের চেয়ারম্যান নুরুচ্ছফা বিকম জানিয়েছেন, ভেড়িবাঁধ না করে সড়ক নির্মাণের কোনো মানে নেই। এটি টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। ভেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য জরুরি বরাদ্দের টাকাগুলো ঠিকমত কাজ করলে অনেক সড়ক রক্ষা পেত।
কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর জানিয়েছেন, গত বছর যে সড়কগুলো নির্মাণ করা হয়েছে এখন এগুলোর কোনো চিহ্ন নেই। তাই পরিকল্পিতভাবে কাজ না করলে এমনই হবে। আমরা আগে চাই ভেড়িবাঁধ পরে রাস্তা।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে এ সব রাস্তা প্রতি বছর মেরামত করতে হচ্ছে। তাই প্রতি বছর গ্রামীণ সড়ক খাতে বিপুল টাকা অপচয় হচ্ছে। যার ফলে কোনোভাবেই স্বাভাবিক হচ্ছে না উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা।





