বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৫ প্রদানের জমকালো আসর প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ প্রদান করছেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ীদের হাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’র সম্মাননা তুলে দেবেন।
এবার আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন দুই গুণীজন। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শাবানা ও সংগীতে অনন্য ভূমিকা রাখায় ফেরদৌসী রহমানকে দেওয়া হচ্ছে এ সম্মাননা। সেরা ছবির পুরস্কার পেয়েছে ‘বাপজানের বায়স্কোপ’ ও ‘অনীল বাগচীর একদিন’।
সেরা নির্মাতা রিয়াজুল রিজু (রিয়াজুল রিজু) ও মোরশেদুল ইসলাম (অনীল বাগচীর একদিন)। সেরা নায়ক শাকিব খান (আরো ভালোবাসবো তোমায়) ও মাহফুজ আহমেদ (জিরো ডিগ্রী)। সেরা নায়িকা জয়া আহসান (জিরো ডিগ্রী)।
একনজরে যারা পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৫ :-
আজীবন সম্মাননা: যুগ্মভাবে-অভিনেত্রী শাবানা ও সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র : যুগ্মভাবে ‘বাপজানের বায়স্কোপ’ ও ‘অনিল বাগচীর একদিন’। শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র : যুগ্মভাবে ‘একাত্তরের গণহত্যা’ ও ‘বধ্যভূমি’।
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক : যুগ্মভাবে মো. রিয়াজুল মওলা রিজু (বাপজানের বায়স্কোপ) ও মোরশেদুল ইসলাম (অনিল বাগচীর একদিন)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা : যুগ্মভাবে শাকিব খান (আরো ভালোবাসবো তোমায়) ও মাহফুজ আহমেদ (জিরো ডিগ্রী)।
শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী : জয়া আহসান (জিরো ডিগ্রী)। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পার্শ্বচরিত্র : গাজী রাকায়েত (অনিল বাগচীর একদিন)। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পার্শ্বচরিত্র : তমা মির্জা (নদীজন) শ্রেষ্ঠ অভিনেতা খলচরিত্র : ইরেশ যাকের (ছুঁয়ে দিল মন)। শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী : যারা যারিব (প্রার্থনা)। একই শাখায় একই ছবির জন্য বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছেন প্রমিয়া রহমান।
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক : সানী জুবায়ের (অনিল বাগচীর একদিন)। শ্রেষ্ঠ গায়ক : যুগ্মভাবে সুবীর নন্দী (তোমারে ছাড়িতে বন্ধু, চলচ্চিত্র-মহুয়া সুন্দরী) ও এস আই টুটুল (উথাল পাথাল জোয়ার, চলচ্চিত্র-বাপজানের বায়স্কোপ)। শ্রেষ্ঠ গায়িকা : প্রিয়াঙ্কা গোপ (আমার সুখ সে তো, চলচ্চিত্র-অনিল বাগচীর একদিন)।
শ্রেষ্ঠ গীতিকার : আমিরুল ইসলাম (উথাল পাথাল জোয়ার, চলচ্চিত্র-বাপজানের বায়স্কোপ)। শ্রেষ্ঠ সুরকার : এসআই টুটুল (উথাল পাথাল জোয়ার, চলচ্চিত্র-বাপজানের বায়স্কোপ)।
শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার : মাসুম রেজা (বাপজানের বায়স্কোপ)। শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার : যুগ্মভাবে মাসুম রেজা (বাপজানের বায়স্কোপ) মো. রিয়াজুল মওলা রিজু (বাপজানের বায়স্কোপ)। শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা : হুমায়ূন আহমেদ (অনিল বাগচীর একদিন)।
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক : মেহেদী রনি (বাপজানের বায়স্কোপ)। শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক সামুরাই মারুফ (জিরো ডিগ্রী)। শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক : মাহফুজুর রহমান খান (পদ্মপাতার জল)। শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক : রতন কুমার পাল (জিরো ডিগ্রী)।
শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা : মুসকান সুমাইকা (পদ্মপাতার জল)। শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান : শফিক (জালালের গল্প) এবার মোট ২৫টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় বলেন, অনেক সময় দেখেছি জীবনসায়ান্থে এসে একজন শিল্পী চিকিৎসার অভাবে পড়ে যায়, নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়। তখন আর তাদের কিছু করার থাকে না। আজকাল অনেক ছেলে মেয়েই তাদের বাবা মাকে দেখে না, শিল্পীর খবর আর কে নেবে! তাই এভাবে যেন কোনো শিল্পীকে কষ্ট পেতে না হয়, অর্থাভাবে, চিকিৎসার অভাবে মারা যেতে না হয় তারই একটা ব্যবস্থা আমি করে যেতে চাই।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৫ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে শিল্পীদের সহযোগিতা করার জন্য একটা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছি। আমি মনে করি এটা আরও বড় করে করা উচিৎ। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে শিল্পীদের জন্য ট্রাস্ট গঠন করা আছে সব মিলিয়ে চিন্তা ভাবনা করে একটি বড় ট্রাস্ট ফান্ড করতে হবে।’
বাংলা চলচ্চিত্রে দেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি ধারণ করতে নির্মাতাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের যারা বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তারা আরও উন্নতমানের সিনেমা নির্মাণ করবেন, যা আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি-কৃষ্টি সব কিছু ধারণ করতে পারে। দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে যেন আরও সুনাম অর্জন করতে পারে সেদিকে আরও বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।’
চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে আমি নিজে সিনেমা হলের মালিকদের সাথে বসেছি। তাদের কি প্রয়োজন জানার চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে আমরা বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। হলগুলো ডিজিটাল করার প্রক্রিয়া চললে। আমরা চলচ্চিত্রে অনুদানের অর্থ বাড়িয়েছি। আমরা চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছি। চলচ্চিত্র কর্মীদের সুবিধা বৃদ্ধি করেছি।’





