বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরু হচ্ছে ৪ নভেম্বর থেকে। এ আসরে থাকছে নতুন নতুন চমক। যেমন এবারই প্রথম সাত থেকে বাড়িয়ে দলের সংখ্যা হচ্ছে আট।এছাড়া বিপিএলের কিছু ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে সিলেটে।

তবে এসব ছাপিয়ে দেশীয় ক্রিকেটারদের এখন প্রধান উদ্ধেগের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বিপিএলে দল নিশ্চিত হলেও সুযোগ মিলবে কি সেরা একাদশে। কারণ একটাই এবার যে বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়িয়ে পাঁচ করার জোর আলোচনা চলছে নীতিনির্ধারক মহলে!

কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে সম্ভাবনার পাল্লা যে বিদেশি বাড়ানোর ফর্মুলার দিকে ঝুঁকে, সেটা বিলক্ষণ আঁচ করতে পারছেন ক্রিকেটাররা। তাতে জাতীয় পুলভুক্তদের লাভ-ক্ষতি না হলেও সাধারণ ক্রিকেটার মহলে উদ্বেগের শেষ নেই। বিদেশির সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই আরো গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তাঁদের। তবে আশঙ্কামুক্তরাই এখন বোর্ডের সামনে ‘আশঙ্কাজনক’দের হয়ে ব্যাট ধরার জন্য পথ খুঁজছেন।

তামিম ইকবাল যেমন বিপিএলে বিদেশির সংখ্যা বাড়ানোর বিপক্ষে মত দিয়েছেন গতকাল, ‘এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমাকে যেহেতু জিজ্ঞাসা করেছেন, তাই বলছি, এটা বলা আমার দায়িত্ব। জাতীয় দলে ১২-১৩ বছর খেলছি। এখন বোর্ড যদি সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমার কাছে এ ব্যাপারে অভিমত চায়, আমি একই কথা বলব। ইতিমধ্যে আমার ফ্র্যাঞ্চাইজিকেও অনুরোধ করেছি বোর্ডের সঙ্গে যদি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়, তারা যেন সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলানোর পক্ষে মত দেন। ’

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজারও একই অভিমত, ‘এ টুর্নামেন্টটা ব্যাক আপ তৈরি করার একটা সুযোগ। আবার খেয়াল করে দেখেন, গত চারটি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সেই দলই যাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা ভালো করেছে। এখন যদি বিদেশির সংখ্যা বাড়ানো হয়, তাহলে সাফল্য নির্ভর করবে ওদের ওপরই। বোর্ড জানতে চাইলে অবশ্যই চারজন বিদেশির কথা বলব। একটা জায়গা ছাড়া মানে প্রতিটি দলের একজন করে স্থানীয় ক্রিকেটার খেলার সুযোগ কম পাবে। ’

২৪ জুলাই এবারের আসরের ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সে সভায় পুরনো চার ক্রিকেটার ‘রিটেইন’ করার পাশাপাশি বিদেশির সংখ্যাও চূড়ান্ত হওয়ার কথা। সে সভায় যদি পাঁচ বিদেশির দাবি অনুমোদিত হয়ে যায়, তাহলে তামিমের আশঙ্কা, ‘সেরকম হলে দেখা যাবে বেশির ভাগ ওভার বোলিং করছে বিদেশি ক্রিকেটার, ব্যাটিংয়েও তাই। কেউ তো আর শুধুই পাঁচ বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান নেবে না, বেশির ভাগই অলরাউন্ডার খেলাবে। বেশি ক্ষতি হবে আমাদের বোলারদের। ওদের বোলিংই করার দরকার হবে না! আমরা যে সব সময় বলি বিপিএল খেলে আমাদের খেলোয়াড়রা তৈরি হবে, সেটা হবে কী করে? বিশ্বের বড় বড় ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে যদি আমাদের বোলাররা বোলিংয়ের সুযোগ না পায়, তাহলে তো সমস্যাটা থেকেই যাবে। বিদেশির সংখ্যা বাড়ালে এটা হবে। ’

তিনবারের চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক মাশরাফির আশঙ্কা, ‘পাঁচজন বিদেশি করার ব্যাপারে একটা যুক্তি শুনছি যে, আমাদের অত বেশিসংখ্যক ক্রিকেটার নাই। এটা ঠিক আছে, আমিও মানি। আমি সব সময়ই বলে আসছি যে আমাদের অত প্লেয়ার নাই। তবু পাঁচজন খেললে পুরো বিপিএলটাই মনে হবে বিদেশিদের। ’

তবে টুর্নামেন্টটা তো শেষমেশ ‘প্রাইভেট’। সেখানে দলগুলোর জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা না করলেও চলে! এ ধারণার সঙ্গে মোটেও একমত নন তামিম, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও দেশের ক্রিকেটের ভালো চান। জানি সব দল অনেক টাকা খরচ করে জেতার জন্যই। সঙ্গে এটাও জানি যে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা চান এ টুর্নামেন্ট থেকে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটও উপকৃত হয়। সেটার জন্যই বিদেশি না বাড়ানোর অনুরোধ করছি। সংখ্যা বাড়ালে পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ন্ত্রণ করবে বিদেশিরা। ’

নিজেদের টুর্নামেন্টে বিদেশিদের হাতে নিয়ন্ত্রণের ছড়ি উঠে যাওয়ার এ আশঙ্কা অমূলক নয়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসের দলেই সে আশঙ্কা মজুদ আছে। শেন ওয়াটসন, সুনীল নারিন, শহিদ আফ্রিদি আর মোহাম্মদ আমের—এ চার বিদেশিই তো ১৬ ওভার বোলিং করে দেবেন সাকিব আল হাসানের ঢাকার! ব্যাটিংয়েও বিদেশি তারকার অভাব নেই। তামিমের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সেরও বিদেশি রসদে কমতি নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়ালে শিরোপা রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

এ নিয়ে দ্বিমত নেই ক্রিকেটার মহলেও। কিন্তু পাল্টা যুক্তি আছে তামিমের কাছে, ‘আইপিএলে শুরুর দিকে বিদেশিদের দাপটই বেশি ছিল। তবু ওরা নিজেদের ক্রিকেটারদেরই গুরুত্ব দিয়েছে বেশি। আজকে ওদের দেখেন, নতুন কত প্লেয়ার উঠে এসেছে। স্থানীয়রাই টুর্নামেন্টের ভাগ্য গড়ে দিচ্ছে। দেশের ক্রিকেটের জন্যই বিদেশির সংখ্যা বাড়ানো ঠিক হবে না। ’

এ অভিমত কিন্তু মাশরাফি আর তামিমের নয়, অভিমত কিংবা অনুরোধ দেশের সব ক্রিকেটারেরই।