ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, হোলি আর্টিজান হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল মাহফুজকে ভারতের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এই হামলায় তাঁর জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে।
আজ বুধবার সকালে ডিএমপি কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বলা হয়েছিল, সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাক্সফোর্স (এসটিএফ) ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তারা। বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ নিয়ে সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল ভারতীয় গোয়েন্দাদের।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভারতীয় গোয়েন্দারা সোহেল মাহফুজকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। তবে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল হলি আর্টিজান হামলায় জড়িত ছিল বলে তথ্য দিয়েছে। এই মামলার অভিযোগপত্র শিগগিরই দেয়া হবে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কাছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছিল না এতদিন। ফরেনসিক রিপোর্ট ছিল না। আমরা সম্প্রতি ফরেনসিক রিপোর্ট পেয়েছি। এখন মামলা চূড়ান্ত পর্যায়ে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে কূটনীতিক পাড়া গুলিশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের ঠেকাতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন।
ওই ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, হত্যাকাণ্ড ও তথ্য গোপনের অভিযোগে তিনটি মামলা করে পুলিশ। এরপর গত এক বছরে আদালতের কাছ থেকে আটবার সময় নিয়েও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি।
এর আগে গত ৭ জুলাই রাতে শিবগঞ্জের পুস্কনি এলাকার একটি আমবাগান থেকে সোহেল মাহফুজ ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম খুরশীদ হোসেন বলেন, সোহেলকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক তছনছ হয়ে গেল। তিনি জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোরের জঙ্গি আস্তানায় সোহেলের যাতায়াত ছিল। সে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করতো। বোমা বানাতেও পারদর্শী সে। সোহেল মাহফুজের সঙ্গে যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা মূলত জঙ্গিদের বিভিন্ন ধরনের সাপোর্ট দিয়ে থাকে।





