প্রবাস মানে স্বপ্নদেশ। জীবন যাপনের পরিবর্তনের লক্ষে ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে, দেশের আপনজনদের মুখে হাসি ফোটাতে বিদেশ বিভুই যাত্রা। দীর্ঘ প্রবাসী সংগ্রামে হয়ে উঠেন একজন প্রবাসী সৈনিক।
আর এই প্রবাসী সৈনিকদের মৃত্যুগুলো হয় সবার অজান্তে নিরব নিভৃত্বে, আপনজনহীন, শব্দহীন চার দেওয়ালের কুঠিরে।
সৌদি আরবে নতুন ভিষা উন্মুক্ত হওয়ায় উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক প্রবাসীর সংখ্যা দিন দিন বারছে। কিন্তু বর্তমানে সৌদি আরবের অর্থনীতি মন্দের কবলে পড়া ও কর্মক্ষেত্রগুলো বন্ধ হওয়া ও প্রবাসী বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দিন দিন হার্ডএ্যাটাকে প্রবাসীদের মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। হার্ডএ্যাটাক ও সড়ক দূর্ঘটার মৃত্যুর হার অনেক বেড়ে গেছে হঠাৎ করে। অর্থ ঋনের বোঝা নিয়ে প্রবাসে এসে দেশে টাকা পাঠানোর ব্যার্থতার জন্য এসব প্রবাসী সৈনিকরা খুব দুশ্চিন্তা থেকে প্রবাসী লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন। গত ২মাস যাবৎ প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেন মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলছে।
গত ২ মাসে প্রায় ১৫/১৮ জন বাংলাদেশি প্রবাসী সড়ক দূর্ঘটনা ও হৃদযন্ত্রক্রীয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর মিছিলে যোগদেন।
এমনি একজন প্রবাসী সৈনিক মোঃ মকবুল হোসেন। দীর্ঘ ২০ বছরের প্রবাস জীবন তার। অনেক চরাই উৎড়াই পেরিয়ে নিজেকে সফল ও সৎ ব্যবসায়ি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশের বাড়িতে আধা -পাকা ঘর থেকে উঠেছে দোতালা ঘর। প্রবাসেও একাধিক সুপার মাকের্ট গড়ে তুলেছেন। লোকাল ম্যানপাওয়ার ব্যাবসায় সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সৌদি আরবে তিনটি কন্সট্রাকশন সাইডে তার প্রায় ১৫০ জনের অধিক শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু হঠাৎ তার মৃত্যুতে শুধু তিনি নন, তার অধিনস্ত উল্লেখিত শ্রমিকরা শ্রমবান্ধব মালিক হীন হয়ে পড়বেন বলে আশংকা করছেন।
গতকাল ১৬ জুলাই রিয়াদের বাঙালী অধ্যুষিত হাই আল ওজারাত (হারা-বাংলা বাজার রোড) এলাকার এই বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মাদারিপুর বাকালার মালিক জনাব মকবুল হোসেন আজ সকাল ৯ঃ৪০ মিনিটে হৃদযন্ত্রক্রীয়া বন্ধ হয়ে নিজ বাসবভনে ইন্তেকাল করেন। ইন্নান ইলাহি অইন্না ইলাহি রাজিয়ুন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৫২বছর। মরহুমের মৃতদেহ রিয়াদের ওবায়েদ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মরহুমের দেশের বাড়ি মাদারিপুর জেলায়।৭মাস বয়সি মরহুমের শিশু মেয়ে সহ তিনি ৩ সন্তানের জনক। দেশ বিদেশে মরহুমের অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি সৎ ও সফল ব্যাবসায়ি হিসাবে হারা এলাকায় সুপরিচিত।মরহুমের মৃতদেহ দেশে প্রর্তাবর্তনের প্রক্রিধীন রয়েছে।রিয়াদ দূতাবাস থেকে মরহুমের স্ত্রীর কাছে লাস গ্রহনের দাবী নামা পাঠানো হয়েছে, প্রশসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে শিশু মেয়েটি সহ তার আপন জনরা জীবিত না হোক মৃত বাবার মুখটি দেখতে পারবে।





