ঝিনাইহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারে ‘গোড়ার মসজিদে’ মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয় এই বিশ্বাসে প্রতি শুক্রবার এখানে দূর-দুরান্ত থেকে শ শ নারী-পুরুষ এসে ভিড় করেন। অনেকে বাড়ি থেকে ভাত, মাছ, মাংস রান্না করে এখানে এনে সাধারণ মানুষকে খাওয়ান।
জুমার নামাজ শেষে কখন খাবার দিবে সে আশায় এখানে লোকজন বসে থাকেন। অনেকে বলছেন এখানে কোন রোগ ব্যাধি সারে না, মানুষ অন্ধের মত বিশ্বাস করে আসে। এখানে প্রতি শুক্রবার অর্ধশত হাস, মুরগি, মুরগির ডিম মানুষ মানত করে থাকে। এই মানতের মালামাল বিক্রি করে মসজিদ কমিটির তালবেলেমরা। এখানে আসা ৯০ ভাগই সহজ সরল ধর্মভীরু নারী ও পুরুষ। তবে দেখা যায় বেশির ভাগই মহিলারা এই মানতে বিশ্বাস করে। এরা বাড়ি থেকে মানতের নামে নিয়ে আসে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, ডাব, কলা, নারিকেল পেঁপে. লাউ ইত্যাদি। এদের বিশ্বাস এই গোড়ার মসজিদের খাদেমদের হাতে তুলে দিয়ে মানত করতে পারলেই পূর্ণ হবে মনোবাসনা।
কিন্তু কোন ফায়দাই হয় না এখানে। এক শ্রেণির মানুষ অপপ্রচার করে থাকে গোড়ার মসজিদে মানত করলে সব রোগ থেকে নাকি মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু রোগ ব্যাধি সেরেছে এমন কাউকে পাওয়া যায়নি এখানে। প্রতি শুক্রবার মানতকারীরা যেসব জিনিস দিয়ে থাকে তা আবার জুম্মার নামাজ শেষে নিলামে ডাক দিয়ে বিক্রি করা হয়। প্রতি মাসে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকার মালামাল বিক্রি হয়। কিন্তু এসব টাকা কোথায় কি কাজে ব্যবহার হয় তা কেউ বলতে পারে না। নিছক এক শ্রেণির মানুষ প্রতারণামূলক ব্যবসা করে চলেছে। কিন্তু মসজিদটির তেমন উন্নয়ন হয়নি। রাস্তার পাশে নির্মাণ করা হয়েছে পরিচিতির জন্য বিশাল এক গেট। এ ব্যাপারে গোড়ার মসজিদের ক্যাশিয়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিরুপায়,কিছু বললে আমাদের জীবনটাও হারাতে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মসজিদটি মূলত প্রত্বতত্ত্ব বিভাগের আওতায়, মসজিদে মূল জমি আছে তিন শতক। গোড়ার এই মসজিদের অর্থিক দায়িত্ব পালন করেন ইউপি সচিব হাবিবুর রহমান। তিনি সকল অর্থ নিজের কাছে জমা রাখেন। কিন্তু কত টাকা জমা হয় তা কারও কাছে হিসাব দেওয়া হয় না।





