রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ গোখরা সাপের উৎপাত দেখা দিয়েছে। গত ৪ দিনে শুধু রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় ২৬৮টি বিষধর এই সাপ মারা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ১৮৮টি ডিম। এ নিয়ে পুরো এলাকায় সাপ আতঙ্ক।
এদিকে, আতঙ্কিত হয়ে সাপ না মারার অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি শনিবার বিকেল ৪টার দিকেে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ অনুরোধ করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো:
‘‘ভয়ে ভয়ে একটা কথা বলি! যতদূর জানি, সাপ নিরীহ প্রাণীদের একটি। সাপ শুধুমাত্র আঘাত পেলে ছোবল দেয়। দেশের হাসপাতালগুলোতে এখন যথেষ্ট পরিমাণ এন্টিভেনম আছে। কয়েকদিন থেকে দেখছি- রাজশাহী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে সাপ খুঁজে খুঁজে মারা হচ্ছে। প্রায় সব পত্রিকা সেটা গ্রহণযোগ্যভাবে প্রচার করছে। না বুঝে নতুন করে মানুষ সাপ মারতে উৎসাহিত হচ্ছেন। এসব জায়গার কোথাও সাপের কামড়ে সম্প্রতি কেউ ‘মারা’ গেছেন তাও শোনা যায়নি। কিন্তু চলছে সাপ মারা।’’
‘‘আপনারা জানেন প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধরে রাখতে সাপের অবদান। পোকা-মাকড়, কীটপতঙ্গ সাপের প্রধান খাবার। সাপ এগুলো না খেলে আমরা হয়তো টিকতে পারতাম না। ইঁদুর ধরার জন্য সাপ ইঁদুরের গর্তে ঢুকে। যেসব জায়গায় সাপ ধরে ধরে মারা হচ্ছে- সেসব জায়গায় আগেও সাপ ছিলো, বাচ্চা হতো। সেই সাপগুলো ইঁদুর নিধন করতো। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে- এই জায়গাগুলো ইঁদুরের দখলে চলে যাবে। আর ইঁদুর যে কী ক্ষতি করতে পারে, তা আমরা সবাই জানি ও বুঝি। ঝুঁকি মনে হলে বাসায় কার্বলিক এসিড রাখবেন। খুব সমস্যা মনে হলে, সাপ ধরে বন বিভাগ বা প্রাণী বিভাগে দিয়ে দেবেন। কিন্তু অযথা মেরে নতুন বিপদ ডেকে আনবেন না দয়া করে।’’
সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির শোবার ঘর, গোয়াল ঘর, রান্না ঘর, বারান্দায় মিলেছে গোখরা সাপ। সাপগুলোর অধিকাংশই বাচ্চা। ইঁদুরের গর্তে বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছিলো গোখরা। আতঙ্কিত গৃহকর্তারা গর্ত খুঁড়ে বের করে মেরে ফেলেছেন সাপগুলো। তখনই নষ্ট করে পুতে ফেলা হয়েছে উদ্ধার করা ডিম।
সবশেষ রাজশাহীর চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়নের গ্রামশিবপুর এলাকার মেহেদি হাসানের বাড়ির শোবার ঘর থেকে শুক্রবার বিকেল ও শনিবার সকালে দুই দফায় ১২টি গোখরা উদ্ধার হয়েছে। এসময় মা গোখরাটি পালিয়ে যায়। উদ্ধারের পর সবগুলো সাপই পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন আতঙ্কিত লোকজন। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গৃহকর্তা মেহেদি হাসান জানান, শুক্রবার দুপুরের পর শোবার ঘরের দরজার কাছে একটি গোখরা সাপের বাচ্চা দেখতে পান। পরিবারের লোকজন মিলে সেটি মেরে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর ঘরের শোবার ঘরের খাটের নিচে আরেকটি বাচ্চা গোখরা পাওয়া যায়। সেটিও পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। খোঁজাখুঁজির পর ঘরের কোণে ইঁদুরের গর্ত পাওয়া যায়। সেখান থেকে পাওয়া আরো ৪টি বাচ্চা গোখরা। সাপ আতঙ্কে সারারাত কেউ ঘুমাতে পারেননি।
মেহেদি হাসান আরো জানান, শনিবার সকালে একই গর্তে একটি মা গোখরা দেখেন বাড়ির লোকজন। পরে সাপুড়ে ডেকে খোঁড়াখুঁড়ির পরও তার সন্ধান মেলেনি। তবে ওই গর্তে আরো ৬টি বাচ্চা গোখরা পাওয়া গেছে। পরে সেগুলোও মেরে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী সদর, তানোর, মোহনপুর এবং দুর্গাপুরে বিষাক্ত গোখরা সাপ পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে পুরো এলাকায় সাপ আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকার লোকজন বাড়ির চারপাশে সাপ আছে কিনা নিশ্চিত হতে নানা পরীক্ষাও করছেন।





