এক সপ্তাহ থেকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার বিকেল ৩টায় পানির প্রবাহ কমে গিয়ে বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
তবে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলায় এখনো পানিবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ব্যারেজ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার থেকে তিস্তা নদীতে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে।
কাউনিয়া উপজেলার চর গদাই, গুপিডাঙ্গা, প্রাণনাথচর, চর ঢুসমারা, হয়বত খাঁ, চর গনাই, টাপুর চর, আজম খাঁ, হরিচরণ শর্মা গ্রামে তিস্তা নদীর পানি ঢুকে বন্যা কবলিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, তলিয়ে গেছে বীজতলা।
পানি বৃদ্ধির ফলে গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ধামুর চর, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা, নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা, চর নোহালী, মিনার বাজারসহ তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকার দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে বুধবার থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে।
আলমবিদিতর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাবুজ্জামান জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার ইউনিয়নে ২০ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তাদের বসতভিটা অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। পানিবন্দি ছিল কয়েক হাজার পরিবার। পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। বুধবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বিকেলে আরো নেমে যায়। পানি আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে।





