কাতারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাক্ষরিত এক গোপন চুক্তি লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনেছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট।

মঙ্গলবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘এতে কোনো প্রকার সন্দেহ নেই যে, কাতার ২০১৩-২০১৪ সালের রিয়াদ চুক্তি শুধুমাত্র অমান্য করেনি বরং তা লঙ্ঘন করাসহ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

চুক্তির শর্তাবলী কখনোই প্রকাশ করা হবে না।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কাতার অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে ইতিমধ্যে ১৩ দফা দাবি রিয়াদ চুক্তিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

তবে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে কাতারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান আহমদ আল-থানি বলেন, ‘সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট কর্তৃক কাতারের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ২০১৩-২০১৪ সালের রিয়াদ চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া তাদের বর্তমান কার্যকলাপ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নিয়মনীতিও আমান্য করে’।

কিন্তু সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করছে, চুক্তির শর্তাবলীর প্রকাশ চুক্তির লঙ্ঘন।

ইতিমধ্যে কাতারের জাতীয় মানবাধিকার কমিটির চেয়ারম্যান আল-মাররি ওয়াশিংটনের ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। বৈঠকে আল-মাররি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদেরকে কাতারের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

গত মাসে সৌদি আরব, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইয়েমেন কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল দোহার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সমর্থনের অভিযোগে।

পরে সৌদি আরব কাতারের সাথে তার স্থল সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং ভৌগোলিকভাবে ক্ষুদ্র উপসাগরীয় দেশকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

চরমপন্থার সঙ্গে কথিত যোগসাজশের যে অভিযোগ কাতারের বিরুদ্ধে উঠেছে, কাতার তা অস্বীকার করেছে।

এছাড়া পরবর্তীতে আল জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করা, তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি তুলে দেয়া এবং ইরানের সাথে সম্পর্ক হ্রাস করাসহ ১৩ দফা দাবি কাতারের উপর আরোপ করেছে সৌদি আরব ও তার মিত্ররা। কিন্তু কাতার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।