নিখোঁজের ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগর থেকে সোমবার দিবাগত রাতে উদ্ধারের সময় ফরহাদ মজহারের সঙ্গে একটি ব্যাগ পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। কিন্তু সেই ব্যাগটি তার কাছে কোথা থেকে এলো তা জানেন না স্ত্রী ফরিদা আখতার ও মেয়ে সমতলী হক।

মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকে সমতলী হক বলেন, বাড়ি থেকে তার বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিও ফুটেজে তার সঙ্গে কোনো ব্যাগ ছিলো না। সেটা আমরা দেখেছি, সবাই দেখেছে। পরে তার কাছে ব্যাগ আসলো কিভাবে?’

সকালে থানায় বাবা ফরহাদ মজহারের সঙ্গে দেখা করেন তার মেয়ে সমতলীহক। তিনি বলেন, তাকে অনেক বেশি ট্রমাটাইজড দেখাচ্ছিলো, বিষন্ন দেখাচ্ছিলো। বাড়ি থেকে খাবার এনে তাকে নাস্তা করানো হয়েছে।

ব্যাগ প্রসঙ্গে তার স্ত্রী ফরিদা আখতার বলেন, ‘ব্যাগ সঙ্গে নিয়েছেন কিনা তা তো জানি না। বাট উনি প্রায়ই একটা ব্যাগ সঙ্গে রাখেন। যার মধ্যে পড়ার জন্য বই ও ওষুধ থাকে। তবে তার কাছে যেমন ব্যাগ দেখা গেছে তেমন ব্যাগ উনি ইউস করেন না। এ ব্যাগ কোথা থেকে আসলো?’

তিনি আরও বলেন, ‘উনি ব্লাড প্রেসারের রোগী। ওষুধ না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর আমার মনে হচ্ছে উনি ঠিকমত খাননি। সঙ্গে ওষুধ নেননি। ওনাকে দেখে খুব খারাপ লাগছে। আগে এমন দেখিনি।’

সোমবার রাত ১১টার দিকে যশোরেরে নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাকে উদ্ধার করে র‌্যাব ৬।এরপর পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ বলেন, ‘তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উনার সঙ্গে একটা ব্যাগ আছে। সেই ব্যাগে বাড়তি একটা জামা ও গেঞ্জি আছে। কিছু টাকা-পয়সা আছে। একটা মোবাইল আছে। একটা চার্জার আছে।’

পরে তাকে স্থানীয় অভয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই কড়া প্রহরায় তাকে পার্শ্ববর্তী ফুলতলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ সকাল ৯টায় যশোর থেকে ফরহাদ মজহারকে প্রথমে ঢাকার আদাবর থানায় পরে সেখান থেকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

ফরহাদ মজহারের নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার রাতেই স্ত্রী ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৪। এর আগে, তিনি জিডি করেছিলেন। জিডি নং- ১০১।

অপহরণ মামলা প্রসঙ্গে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানাতে পারব।

ডিবি কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করে ফরহাদ মজহারকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে নেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফরহাদ মজহারের স্ত্রী’র করা জিডি অনুযায়ী ভিকটিম হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ফরহাদ মজহারকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিবির এই যুগ্ম কমিশনার।

ব্রিফিংয়ে আব্দুল বাতেন বলেন, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি কীভাবে কী হলো। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল ওষুধ কেনার জন্য তিনি বের হন। পরে সাদা মাইক্রোতে কয়েকজন লোক তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তার চোখ বেঁধে ফেলায় তিনি আর কিছু বুঝে উঠতে পারেননি।