যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। সোমবার রাত ১১ টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

এরপর তাকে অভয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১২ টার দিকে তাকে র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৬ খুলনার পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তবে তাকে অপরহরণ করা হয়েছিল, নাকি নিজে আত্মগোপন করেছিলেন সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


অভয়নগর থানার ওসি আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান ‘আমি নিজে বেঙ্গল গেট এলাকায় হানিফ পরিবহনের বাস থেকে তাকে আটক করেছি। তাকে অভয়নগর থানায় নেয়া হয়। পরে তাকে খুলনায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে খুলনার একটি সূত্রের দাবি, খুলনার নিউ মার্কেট-সংলগ্ন ‘গ্রিল হাউজ’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ফরহাদ মজহারকে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়। হোটেলের মালিক, ক্যাশিয়ার ও খাবার সরবরাহকারী তিন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ তথ্য দিয়েছেন।
এর আগে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় নিশ্চিত হয়ে সেখানে অভিযানে নামে খুলনা র‌্যাব-৬। তারপর র‌্যাব খবর পায় গ্রিল হাউজ হোটেলে ফরহাদ মজহার অবস্থান করছেন। এই খবরে রাত ১০টায় সেখানে যায় র‌্যাব। কিন্তু সেখানে গিয়ে ফরহাদ মজহারকে পাওয়া যায়নি। খুলনা র‌্যাবের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে গ্রিল হাউজের মালিক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ফরহাদ মজহার তার হোটেলে আসেন। ওই সাদা ভাত, ডাল ও সবজি দিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেন। তারপর ৯টার দিকে তিনি বের হয়ে যান। তিনি একা ছিলেন। তার পরনে সাদা লুঙ্গি, সাদা পাঞ্জাবি এবং মাথায় সাদা কাপড় ছিল।
ফরহাদ মজহারকে খাবার সরবরাহকারী হোটেল স্টাফ রেজাউল করিম জানান, তাকে (ফরহাদ মজহার) শারীরিকভাবে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। হোটেলের ক্যাশিয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তার (ফরহাদ মজহার) ১৭০ টাকা বিল হয়েছিল। তিনি নিজে বিল পরিশোধ করে হোটেল থেকে বের হয়ে যান। এরপর তিনি হানিফ পরিবহনে উঠেন। একপর্যায়ে র‌্যাব অভয়নগরের নওয়াপাড়া ভাঙ্গা গেট এলাকায় পরিবহন তল্লাশি করে কবি ও লেখককে উদ্ধার করে।
এর আগে সোমবার ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর শ্যামলীর আদাবরের নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না তার। তার স্ত্রী ফরিদা আখতার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর থেকেই দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তাকে উদ্ধারে প্রশাসনের নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়। প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র মতে, ফরহাদ মজহার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
এর আগে ফরহাদ মজহারের বাড়ির সামনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর ৫টা ৫ মিনিটে স্বাভাবিক পোশাক পরে তিনি হেঁটে বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তার পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি সাধারণত ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। তবে অত ভোরে তিনি বাসা থেকে বের হন না। তিনি সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ১০টার পরেই বাসার বাইরে যান। কিন্তু তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর ৫টা ২৯ মিনিটে তার স্ত্রীর মুঠোফোনে ফোন করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাকে মেরে ফেলবে।’