উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদনদীর পানি ধীর গতিতে কমলেও প্লাবিত এলাকার পানি সরছে না। ফলে বন্যা প্লাবিত সিলেটের ৬ উপজেলার সাধারণ মানুষের দুর্গতি কমছে না।

নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হওয়ার কারণে জেলা সদরের সাথে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বন্যার্থদের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা অপর্যাপ্ত।

সোমবার দিনভর সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর, শরিফগঞ্জ ও বাদেপাশা ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকা চষে বেড়ান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় তিনি বন্যা কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ-খবর নেন। দুর্গত লোকজনের হাতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে তাগিদ দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বন্যার্তদের পাশে আছে। নেত্রীর নির্দেশে সরকারি কাজ ফেলে আপনাদের পাশে ছুটে এসেছি। বন্যা কবলিত এলাকার একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী সঙ্গে ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মিসবাহ, ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছালিক আহমদ, বাদেপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ, যুবলীগ নেতা অ্যাভোকেট আব্বাস উদ্দিনসহ আরো অনেকে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গোলাপগঞ্জ এলাকায় সরকার থেকে সাড়ে ১৮ মেট্রিকটন চাল, নগদ প্রায় ৩১ হাজার টাকা এবং অর্ধলক্ষাধিক টাকার ভিজিএফ কার্ড বন্যার্তদের প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিয়ানীবাজারে সাড়ে ১৪ মেট্রিকটন চাল, ৩২ হাজার টাকা ও ৪ হাজার ৯৫০টি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরেজমিনে ভাদেশ্বর এলাকায় দেখা যায়, বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বানভাসি জনপদে গো খাদ্যের সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এদিকে সৃষ্ট বন্যার পরিস্থিতি অবনতির ফলে বন্ধ ঘোষিত আড়াই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ক্লাস হয়নি। পানি নেমে যাওয়ার কোনো লক্ষণও দেখছেন না বন্যা কবলিতরা।
ভাদেশ্বরের শরিফ আহমদ বলেন, ‘কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।’ কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে সিলেটের প্রধান ২ নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি কমছে। তবে তা অত্যন্ত ধীরগতিতে। ২৪ ঘণ্টায় ২/৩ সেন্টিমিটার করে পানি কমছে।

সুরমা নদীর পানি কানাইঘাটে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর পানি আমলসীদ, শেওলা ও শেরপুরে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আমলসীদে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার, শেওলায় ৫৭ সেন্টিমিটার ও শেরপুরে ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় সব ধরনের সুযোগ সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ সামগ্রীও ইতিমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ৮৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।