ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে আদিতমারীর কালীরস্থান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেনী কক্ষ। ২ মাস পেরিয়ে গেলে সরকারি কোন বরাদ্দ না পাওয়ায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান।

বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন দিয়েও সাড়া মেলেনি তাদের পক্ষ থেকে এমন দাবি প্রতিষ্ঠান প্রধানের।

আজ সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গত মে মাসে আকস্মিক ঝড়ে বিদ্যালয়টির দুটি শ্রেনী কক্ষের টিনের ঘড় বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে সেখানেই চলে আসছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। রমজান ও পবিত্র ঈদ-উল ফিতর ছুটি শেষে গত শনিবার থেকে বিদ্যালয়টির ক্লাস পুনরায় শুরু হয়। এরপর বিপাকে পড়েন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা। তাদের অন্যত্র পাঠদানের সুযোগ না থাকায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে পাঠদান। প্রচন্ড রোদের তাপে শিক্ষার্থীদের শরীর বেড়ে পানি ঝড়লেও পাঠদান থেমে থাকেনি।

এ সময় কথা হয় ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র নুর হোসেন, নুরুজ্জামান, ছাত্রী রোকেয়া খাতুন ও জান্নাতুল ফেরদৌসির সাথে। তারা জানান, এভাবে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে আর কতদিন আমরা ক্লাস করব। তারা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে, কালীরস্থান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে স্থাপতি হয়। ২০০৪ সালে পাঠদানের অনুমতি পায় আর ২০১১ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি পায়। এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ৯ জন শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২১৭ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। ২০১৫ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৪৭ জন অংশ গ্রহণ করে ৩৭ জন পাস করেছেন।

২০১৬ সালে জেএসসি পরীক্ষায় ৪৬ জনের মধ্যে ২ জন এ প্লাসসহ ৪১ জন শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ বছর ৫৩ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী গণিক শিক্ষক অনিল চন্দ্র রায় জানান, ২০০৪ সালে এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করার পর থেকে অদ্যবদি পাঠদান করেই আসছেন কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টি ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এভাবেই চলছে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান।

আদিতমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম আরিফ মাহফুজ বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষক অবগত করায় উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে জানানো হয়েছে। তবে শীঘ্রই বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন।