লেখক, কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহারকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

এক পরিচিত ব্যক্তির ফোন পেয়ে সোমবার ভোর পাঁচটা ছয় মিনিটের দিকে রাজধানীর শ্যামলীর বাসা থেকে ফরহাদ মজহার বের হন। এরপর থেকে আর তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

ফরহাদ মজহারের ঘনিষ্ঠ ও চিন্তা পাঠচক্রের অন্যতম এক সমন্বয়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কবি ফরহাদ মজহারকে সোমবার ভোরে রাজধানীর শ্যামলী থেকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বাসা থেকে ভোর পাঁচটা ছয় মিনিটের দিকে বের হন। পরে পাঁচটা ২৯ মিনিটে স্ত্রী ফরিদা আখতারকে ফোন করে ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন- ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে’। এরপর ফরহাদ মজহারের ফোন বন্ধ হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘পরে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে একই নম্বর থেকে ফোন থেকে ফরিদা আখতারের কাছে ৩৫ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এভাবে কয়েকবার ফোন করা হয়। পরে ফরহাদ মজহারকে অপহরণের বিষয়টি আইনশৃংখলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাসার ভিডিও ফুটেজেও দেখা গেছে, ফরহাদ মজহার নেমে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে রাজধানীর আদাবর থানায় ঘটনাটি জানানো হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোবাইল ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান প্রথমে মানিকগঞ্জ ও পরে মাগুরায় পেয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছেন। পাটুরিয়া ফেরিঘাট দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

পরিবারের বরাতে আদাবর থানার এসআই মোহসিন বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে ফরহাদ মজহারের এক আত্মীয় থানায় এসে অভিযোগ করেন, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভোরে পরিচিত এক লোকের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এরপর আর তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফরহাদ মজহারের বাসায় এখন শুধু তার স্ত্রী রয়েছেন। ওই ঘটনায় এখনো কোনো জিডি বা মামলা হয়নি। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর ওসি ও ইনস্পেক্টর তদন্ত ফরহাদ মজহারের বাসায় গিয়েছেন। তারাই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।’

এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার ও আদাবর থানার ওসি শেখ শাহিনুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। পরে সরেজমিনে থানায় গিয়ে দেখা যায় ওসি ও ইন্সপেক্টর তদন্ত দুইজনেই ওই ঘটনার তদন্তকাজে বাইরে অবস্থান করছেন।