প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি গাড়িতে চড়তে পারি, বাসে চড়তে পারি, ভ্যানে চড়তে পারি। পানিতে নামতে পারি।

আর এসব পারি বলেই উন্নয়ন করতে পারছি। আমি নিজের চোখে মানুষের কষ্ট দেখেছি। এ কারণেই মানুষের কষ্ট লাঘবে কি করা প্রয়োজন সেটা চিন্তা নিয়ে পরিকল্পনা করে অগ্রসর হয়েছি।

তিনি আজ সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমি একটি শাড়ি পরে এসেছি। আমার মেয়ে সায়মার বিদেশি কিছু বন্ধু এসেছিলো। তারা সোনারগাঁও গিয়েছিল ঘুরতে। সেখানে তাঁতিরা যথেষ্ট তাঁত বোনেন। সেখান থেকে তাঁতের শাড়ি কিনে এনেছে। শাড়ির দাম চেয়েছিল ৬ হাজার ৫শ টাকা। সেখান থেকে নাকি ৫শ টাকা কম নিয়েছে। ৫শ টাকা কম নিলেও আমি আমার জামাইবাবাজিকে একটু বললাম তুমি তাকে ৫শ টাকা কম দিলে কেন। বরং ৫শ টাকা বেশি দিয়ে আসার দরকার ছিল। জামাই বললো, আম্মা কিনতে গেলে তো একটু বারগেইন করতেই হবে। এই শাড়িটা পরেই আজ আমি এসেছি। কারণ আমার মেয়ে কিনে এনেছে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীন সম্পদ বাড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। দেশে কর বান্ধব, রাজস্ব বান্ধব ও বিনিয়োগ বান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য তিনি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীসহ দেশের জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে ১৯৭৩-৭৪ সালে রাজস্ব প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬৭ দশমিক ২১ শতাংশ এবং ১৯৭৪-৭৫ সালে ছিল ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। পরবর্তী বছরগুলোতে আর কখনো এই মাত্রার প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়াস চালিয়ে দেশে একটি রাজস্ব বান্ধব সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন জনগণও কর প্রদানে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই কর দেশের উন্নয়নের কাজে লাগে। কর জিডিপির অনুপাত ২০২১ সালের মধ্যে ১৩ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।