পশ্চিম লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জীবিত কাউকে খুঁজে পাবার আর কোনো আশা নেই ‘ উদ্ধারপর্ব সেরে এমনটাই বলছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
সেসময় লন্ডন ফায়ার কমিশনার ড্যানি কটন জানিয়েছিলেন , নর্থ কেনসিংটনে অবস্থিত আগুনে পুড়ে যাওয়া ২৪ তলা গ্রেনফেল টাওয়ারের ভেতরে ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই হয়তো ‘নিখোঁজ অনেকে রয়ে গেছেন’। তবে সেই সংখ্যাটা ছিলো অজানা। এবার সেই নিখোঁজের তালিকা পরিণত হচ্ছে লাশের তালিকায়
যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে দুজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সোমবার লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশন ওই দুজনের নাম প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) নাদীম কাদিরের পাঠানো ই-মেইল বার্তায় এ তথ্য জানা গেছে। এ দুই বৃটিশ বাংলাদেশী হলেন- হুসনা বেগম ও রাবেয়া বেগম।
তাদের মধ্যে সম্পর্কের কথা উল্লেখ না করলেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা থাকতেন গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৪২ নম্বর অ্যাপার্টমেন্টে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির বাসিন্দাদের মধ্যে একটি বাংলাদেশী পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। আগুন ধরার পর গ্রেনফেল টাওয়ারের ১৮ তলায় মা-বাবাকে ফেলে না এসে তাদের সঙ্গে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছিলেন তিন ভাইবোন।
ব্রিটিশ পত্রিকা মিরর’র ২৩ জুনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনটিতে আগুন লাগার পর ১৮ তলায় বাবা-মাকে ফেলে না এসে সেখানে থেকে যান তিন তরুণ ভাই-বোন এবং মারা যান তারা। সেখানে রাবেয়াকে মা, হুসনাকে মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কমরু মিয়ার পরিবারের অপর দুই সন্তান হানিফ (২৬) ও হামিদের (২৯) কথা বলা হয়েছিল।
ভবনে আগুন লাগার পর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ফোনে আত্মীয়দের সঙ্গে কথোপকথনে সেখানে বাবা-মার সঙ্গে থেকে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন ওই তিন ভাই-বোন।
রাবেয়া ওই পরিবারের মা আর হুসনা তার মেয়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাবেয়ার স্বামী কমরু মিয়ার পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকাইলকুড়া ইউনিয়নের কৈশাউড়া গ্রামে।
গত ১৪ জুন ওই ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৭৯ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। তাদের সবারই নাম প্রথমে ‘নিখোজের তালিকায় থাকলেও এখন পরিনত হচ্ছে লাশের তালিকায়।
এর আআগে পশ্চিম লন্ডনে গ্রেনফেল টাওয়ার নামে বহুতল ভবনটিতে যখন আগুন লাগে তখন সেখানকার বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। ৬০০ থেকে ৮০০ লোকের আবাস গ্রেনফেল টাওয়ার নামের এই আবাসিক ভবনটিতে আগুন লাগে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাত একটার দিকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েছেন। এমনকী শিশু সন্তানকেও নিরাপদে রাখার জন্য জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলা হয়েছে।
তারপরও ধোঁয়ার কারণে বহু মানুষ আটকা পড়েছিলেন ভবনটিতে, অনেকে বের হতে চাইলেও বের হতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার সকালে লন্ডন ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ড্যানি কটন জানান, পুরো ভবনটিতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। কিন্তু আগুনে পুড়ে ভেতরে এমন ধ্বংসস্তুপ তৈরি হয়েছে যার মধ্যে অভিযান চালানো হবে খুব ‘জটিল ও কষ্টকর’।
আর যেহেতু ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা আছে আগে সেই বিষয়টা ঠিক করে পরে ধ্বংসস্তুপের ভেতরে অনুসন্ধান চালাতে হবে বলেও জানান কটন।





