শাড়ি, লুঙ্গি, শিশুদের জামাকাপড় কেনা হয়েছে। পাহাড়ি নারীদের জন্য কেনা হয়েছে পিনন। আজ রবিবারের মধ্যেই রাঙামাটির ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রের তিন হাজার ২০০ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এসব কাপড়।

ঈদের দিন বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তা নিজেদের ছুটি বাতিল করে ঈদ উদ্যাপন করবেন আশ্রিতদের সঙ্গেই।

সারা দেশ থেকেও অসংখ্য মানুষ ও সংগঠন দাঁড়িয়েছে রাঙামাটির দুর্গত মানুষের পাশে। স্থানীয়রাও নিজেদের কেনাকাটা ফেলে আশ্রয়কেন্দ্রের মানুষের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

চারদিকে এত এত আয়োজন, তবু মন ভালো নেই পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর। বিষণ্ন বদনে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল জাহানারা বেগম, মিনু আক্তার ও নুরুল ইসলামদের। সদরের এক প্রান্তের বিএডিসি অফিস আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রিত শিমুলতলির বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৬৫) বললেন, ‘কত পরিকল্পনা ছিল, ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঈদ আনন্দ করার। কিন্তু স্বপ্নটা তো এক রাতেই শেষ হয়ে গেল। আশা তো আর পূরণ হলো না। এখন কী হবে জানি না। আল্লাহ কপালে যতটুকু মিলায় ততটুকু নিয়েই ঈদ করব। ’

মিনু আক্তার (২৫) বলেন, ‘সব পরিকল্পনা তো ভেস্তে গেছে। এখন বাড়ি নাই, ঘর নাই, আশ্রয়কেন্দ্রে পড়ে আছি। মনে অনেক কষ্ট আছে। ’

জাহানারা, মিনু, নুরু ইসলাম, আরেফিন কিংবা জয়নাব বেগম—সবার হাহাকার আর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা একই রকম। পাহাড়ধস জীবন ওলটপালট করে দিয়েছে তাঁদের।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘আমার জেলা প্রশাসনের সবাই ঈদ করব এই আশ্রিতদের সঙ্গে। তারা নিজের বাড়িতে থাকলে যেভাবে ঈদে আনন্দ করত, তা হয়তো করাতে পারব না। তবু চেষ্টা করব ন্যূনতম আনন্দ দিতে। ’

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, রাঙামাটি শহরের ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রের তিন হাজার ২০০ মানুষ, তাদের সঙ্গে কাজ করা ফায়ার ব্রিগেড, রেড ক্রিসেন্টের কর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সবার জন্যই ঈদের দিন থাকছে বিশেষ আয়োজন। এর জন্য এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ।

বনরূপার একজন ব্যবসায়ী নেতাও জানালেন, তিনি আশ্রয়কেন্দ্রের কিছু শিশুর জন্য কিনেছেন ঈদের পোশাক। তিনি এবারের ঈদের আনন্দটা ভাগাভাগি করতে চান সব হারানো মানুষের সঙ্গে।

ত্রাণ নিল লংগদুর পাহাড়িরা : গত ১ জুন রাঙামাটির লংগদুতে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যাকাণ্ডের জের ধরে পাহাড়িদের দুই শতাধিক বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর গতকাল শনিবার প্রথমবারের মতো সরকারি ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। যারা আগুন দিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এত দিন ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ করেনি পাহাড়িরা। ওই ঘটনায় এরই মধ্যে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সকালে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাঙামাটি জেলা পরিষদের মাধ্যমে তিনটিলা বৌদ্ধ বিহারে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ১১ লাখ টাকা, ২৫ মেট্রিক টন খদ্যশস্য ও তিন লাখ ৫০ হাজার টাকার কাপড়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হাজি কামাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের সদস্য সুবির চাকমা, লংগদু সদর ইউপির চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র চাকমা (আদু), আটারকছড়া ইউপির চেয়ারম্যান মঙ্গল চাকমা, লংগদু থানার ওসি মো. মুমিনুল ইসলাম প্রমুখ।