মওদুদ আহমেদের কাছ থেকে রাজউকের দখল নেয়া বাড়িটির মালিকানা দাবি করা সেই অস্ট্রিয়ান নাগরিককে হয়রানির অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী জেনিফার আশরাফ।
গতকাল তিনি তার ফেসবুক ওয়ালে এ ব্যাপারে একটি পোস্ট করেন।
জেনিফার আশরাফ তার ওয়ালে ইংরেজিতে পোস্টটি দেন। এর বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘আমার ফ্রেন্ডলিস্টে যেসব বন্ধু আছেন, তাদের কাছে আমি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা এ পোস্টটি শেয়ার করুন, যাতে এ খবরটি ছড়িয়ে পড়ে এবং তার ও আমার নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। বর্তমানে আমি আমার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত। যারা এসব করেছে তারা নিজেদের পুলিশ দাবি করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত এখানে তুলে ধরা হলো: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে গুলশানের যে বাড়ি থেকে উৎখাত করা হয়েছে তার বৈধ মালিক অস্ট্রিয়ান নাগরিক করিম ফ্রাঞ্জ সোলাইমান। তাকে ঢাকার গুলশানের ফোর পয়েন্টস হোটেল থেকে জোর করে বের করে দেয়া হয়েছে। দৃশ্যত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আইনি সুবিধা নিতে দেয়া হয়নি। তার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রাপ্ত ব্যারিস্টার জেনিফার আশরাফের গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়া হয়েছে ওই হোটেলের সামনে থেকে। তার মাকে হয়রানি করা হয়েছে এবং অফিসের পিয়নকে আটক করা হয়েছে। এসব যারা করেছে, তারা নিজেদের পুলিশ বলে দাবি করেছে। কিন্তু তারা কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, নয়া দিল্লির অস্ট্রিয়ান দূতাবাস, অস্ট্রিয়ার সরকার এবং বাংলাদেশের অস্ট্রিয়ান কনস্যুলেটের কাছে জরুরি সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের বন্ধুরা, প্লিজ জরুরি সহায়তা করুন।’
এছাড়া ফেসবুকের ওই পোস্টে তিনি কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন। যাতে হোটেলে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পোস্টটি তিনি শেয়ার করার জন্য তার ফেসবুক বন্ধুদের অনুরোধ করেছেন। এরপরই এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে পুলিশি হয়রানির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিকী। গতকাল বিকালে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। কে বাড়িটির মালিকানা দাবি করেছেন সে ব্যাপারে তিনি অবগত নন। একই সঙ্গে হোটেল ফোরপয়েন্ট থেকে কাউকে তারা বের করে দেননি। এমনকি অস্ট্রিয়ান ওই নাগরিকের বুধবারের সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কেও তিনি অবগত নন। এ প্রতিবেদকের কাছ থেকে প্রথম এই ঘটনা শুনলেন বলেও দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।





