মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের সাথে সৌদি আরব, আরব আমিরাত এবং মিশরের বিচ্ছিন্ন সম্পর্ক এখনো জোড়া লাগেনি। প্রতিনিয়ত এই সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে পক্ষে ও বিপক্ষে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। কাতারের পক্ষ নেয়া দেশগুলো ‘চাপের মুখে পড়ছেন’ কাতারকে একঘরে করা দেশগুলোর কাছে।

কাতারের সাথে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশরের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণাটা এসেছে অনেকটা আকস্মিক। আর এই উদ্যোগের পেছনে মূল ভূমিকা যে সৌদি আরবের সে ব্যাপারেও বিশ্লেষকরা নিশ্চিত।

এমন অবস্থায় দু দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব এবার সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পশু চারণ ভূমি থেকে কাতারের সব উট এবং ভেড়া সরিয়ে নিতে হবে। আর সৌদি আরবের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছে কাতারের শত শত পশুর মালিক।

আকারে আয়তনে কাতার যেহেতু একেবারে ছোট একটি দেশ, তাই অনেক কাতারি তাদের উট এবং ভেড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন চারণভূমিতে নিয়ে রাখতো এতদিন।

হুট করে সৌদি আরবের এমন ঘোষণার পর ইতোমধ্যে প্রায় পচিশ হাজার উট এবং পনের হাজার ভেড়া সীমান্ত অতিক্রম করে কাতারে ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন কাতারের পশু মালিকেরা।

এদিকে, আকস্মিক ফিরে আসা উট এবং ভেড়ার পালের জন্য কাতার একটি জরুরী আশ্রয় কেন্দ্র খুলেছে। সেখানে পানি এবং পশু খাদ্যের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

কাতারের পৌর এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফিরে আসা উট এবং ভেড়ার পালের জন্য নতুন জায়গা খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের অস্থায়ী আশ্রয় শিবিরেই রাখা হবে।

কাতারের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান,এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার উট এবং ভেড়া সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবের এমন ঘোষণাকে ‘প্রতিহিংসা’ দাবী করে কাতারি পশু পালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আলী মাগারেহ নামে একজন রয়টার্সকে বলেন, “আমরা এসব রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে চাই না। আমরা মোটেই খুশি নই।”

এ মাসের শুরুতে সৌদি আরব সহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে। কাতার ইসলামি জঙ্গীবাদকে মদত দিচ্ছে অভিযোগ তুলে তারা এই পদক্ষেপ নেয়। কাতার অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।