সৌদি আরবের শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ৮টি অনুমোদিত দেশ থেকে গৃহকর্মী আনার ক্ষেত্রে ১২৬টি রিক্রুটিং এজেন্সীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম এবং রিক্রুটিং এর আইন লঙ্ঘন করায় এজেন্সীগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালিদ আবা আল-খলিল জানিয়েছেন, যেসব ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান সৌদি আরবে অবৈধভাবে গৃহকর্মী আনার ব্যবসা করে তাদের উপর নজর রাখবে শ্রম মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সৌদি নাগরিকরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া এবং নাইজার থেকে গৃহকর্মী নিতে পারে।

এই দেশগুলো থেকে গৃহকর্মী আনার খরচ ৮,০০০ সৌদি রিয়াল থেকে ২২,০০০ সৌদি রিয়ালের মধ্যে। এছাড়া নিয়োগদাতা নার্স, ড্রাইভার বা শ্রমিক নেয়ার জন্যও আবেদন করতে পারে।

উল্লেখ্য নিষেধাজ্ঞা এই দেশগুলোর উপরে নয়, তবে এই দেশগুলোরই১২৬টি রিক্রুটিং এজেন্সীর উপর। অন্য এজেন্সি ভিসা প্রসেসিং করতে পারবে।

যেসব ব্যক্তি বা রিক্রুটিং এজেন্সী অনিয়ম করেছে বা আইন লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ আনা হতে পারে, তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হতে পারে এবং তাদেরকে ১০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানাও করা হতে পারে।

গৃহকর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে, মন্ত্রণালয় সৌদি নাগরিকদের শুধুমাত্র অনুমোদিত রিক্রটিং এজেন্সীগুলোর সাথেই যোগাযোগ করতে বলেছে যার তালিকা মুসানেদ অনলাইন পোর্টালে দেয়া আছে।

মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানানো হয়েছে যে, তারা ৬টি রিক্রুটিং এজেন্সীর লাইসেন্স নবায়ন করবে না এবং এরই মধ্যে ৭টি এজেন্সীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে রিক্রটিং এজেন্সীগুলোর বিরুদ্ধ প্রায় ৭ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে। সৌদি আইন অনুযায়ী, গৃহকর্মীদের দিনে ৯ ঘন্টা বিশ্রাম নেয়ার অধিকার আছে এবং নিয়োগদাতার সাথে চুক্তি অনুযায়ী সপ্তাহে একদিন ছুটি পাওয়ার কথা।

এই আইনে বলা আছে, গৃহকর্মীদের স্বাস্থ্যসেবার খরচও তার কফিলকেই বহন করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, একজন শ্রমিক বছরে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত অসুস্থতার জন্য ছুটি পাবে।

এই সময়ে সে তার বেতনও পাবে। দুই বছর কাজ করার পর একজন গৃহকর্মী এক মাসের বেশি সময় ছুটি পাবে। আর যদি কোন গৃহকর্মী একজন কফিলের অধীনে টানা ৪ বছর কাজ করে তাহলে তার বোনাস পাওয়ারও অধিকার আছে।

কাজের চুক্তিপত্রের ৩ কপির এক কপি থাকবে রিক্রুটমেন্ট অফিসে, এক কপি থাকবে কফিলের কাছে এবং আর এক কপি থাকবে গৃহকর্মীর কাছে।