গতকাল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি সেমিফাইনাল ম্যাচের পর আলোচনা হওয়া উচিৎ ছিল বিরাট কোহলির দারুণ অধিনায়কত্ব ও দুর্দান্ত অপরাজিত ৯৬ রান নিয়ে।
অথচ আলোচনা হচ্ছে তার একটি বিশেষ অঙ্গ নিয়ে, জিহ্বা! মুশফিক আউট হওয়ার পরপর তিনি বেশ কয়েক ইঞ্চি জিহ্বা বের করে অদ্ভুত একটা ভঙ্গী করেন। কেন করেন, আমাদের জানা নেই। কিন্তু জানার কোনো শেষ নাই বলেই জানার চেষ্টা করা বন্ধ করা বৃথা তাই। eআরকি ভাবতে চেষ্টা করেছে, কোহলির এমন ‘আজিভ’ (আজিব!) আচরণের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে।
১। এটা হতে পারে তার ব্যায়াম। ব্যায়াম তো অনেক রকমের হয়। হাত পায়ের ব্যায়াম থেকে শুরু জিহ্বার ব্যায়াম হতে পারে। আর যে কোনো খেলায় ভালো করতে ব্যায়াম তথা অনুশীলনীর কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বলা যায়, কোহলি একজন পরিশ্রমী খেলোয়াড়।
২। ফিল্ডিং করতে করতে মাঠের সবাই হয়ত কিছুটা বোর ফিল করতেছিলেন। তাই হয়তো তিনি সব ফিল্ডারকে চাঙ্গা করতে জিভ বের করে একটু মজা দেখাচ্ছিলেন। ভুলে গেলে চলবে না, তিনি একজন অধিনায়ক। দলের মানসিকতা পজিটিভ রাখতে তিনি এতটুকু চেষ্টা করতেই পারেন।
৩। তিনি হয়তো এভাবে জিভ বের করে ব্যাটসম্যানকে ভয় দেখাতে চেয়েছেন। যাতে করে ব্যাটসম্যানেরা ভয় পেয়ে দ্রুত আউট হয়ে যায়। এটা হতে পারে তার গোপন কোনো টেকনিক। তিনি সবাইকে আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন, ক্রিকেট আসলে টেকনিকের খেলা।
৪। তিনি আসলে চাচ্ছিলেন সেলিব্রেশনে একটু ভিন্নতা আনতে। সবাই তো চিৎকার করে কিংবা দৌড়ঝাঁপ দিয়ে সেলিব্রেট করে। জিভ বের করে সেলিব্রেট করে কয়জন? এটা একটা ক্রিয়েটিভিটি। ক্রিকেটারদের শুধু ক্রিকেট খেললেই হয় না, তাদের ক্রিয়েটিভিটিও থাকতে হয়। তার কাছ থেকে সবাই এই শিক্ষাটা নিতে পারে।
৫। ছোটবেলায় আমরা আমাদের ভাই-বোনদের দুষ্টুমি করে অনেক সময় ভেংচি কাটতাম। তিনিও এভাবে আমাদের প্লেয়ারদের আপন ভাই ভেবে একটু দুষ্টুমি করেছেন, এই আর কি। আমাদের খেলোয়ারদের উচিত ছিল আবেগে মাঠেই তাকে জড়িয়ে ধরা।
৬। গ্যালারির তখন হয়ত কেউই মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছিলো না। তাই তিনি গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতেই খানিকটা জিভ বের করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভুলে গেলে চলবে না, মাঠের দর্শক হলো খেলার প্রাণ। তাদের খেলায় মনোযোগ ঘটানো একজন খেলোয়াড়ের অনেক বড় একটা গুণ। শুধু ব্যাটিং করেই নয়, কোহলি দর্শকদের মনোযোগ যে সামান্য জিহবা বের করেও খেলায় দেরাতে পারেন, এটাই তিনি দেখাতে চেয়েছেন!
৭। ভুলে গেলে চলবে না, তার গার্লফ্রেন্ডের নাম আনুশকা শর্মা। ইয়ে, বাকিটা না বলাই ভালো হবে, বললেই তো বুইলবেন বুলচি!
৮। কোহলিকে মাঠে পাশে থাকা অন্য ফিল্ডার জিজ্ঞেস করেছিলেন বোধহয়, ‘বস, আপনি যেগুলো প্রোফাইল পিকচার দেন সেগুলো তো ড্যাশিং হয়, কিন্তু আপনি যে সব ছবিতে ট্যাগড হন সেগুলোতে আপনাকে কেমন দেখা যায়?’ কোহলি জিহ্বা বের করে দেখিয়ে বোঝালেন, যাবতীয় বিকৃত ছবিগুলোতেই আসলে আমরা ট্যাগড হই। এই কান্ডের পেছনে আসলে কঠিন জীবনবোধ আছে রে ভাই, কঠিন নিষ্ঠুর বাস্তব আছে…
৯। মাঠে গালিগালাজ করতে ভীষণ ভালোবাসেন তিনি, তার প্রমাণ তো আমরা কিছু কম পাই নি। গতকাল খেলার সময় অনেকক্ষণ কাউকে কোনো গালিগালাজ না করায় কোহলির হয়তো জিহ্বায় ঝিঝি ধরেছিল। এজন্য ঝিঝি ভাব কাটাতে…
১০। মাঠে সবার শীত লাগলেও খেলার উত্তেজনায় কোহলির গরম লাগছিল, পিপাসাও পেয়েছিল। জিহ্বা বের করে তিনি বাংলাদেশের নাসিরকে পানি নিয়ে আসতে ইঙ্গিত করেছিলেন। পরে অবশ্য জেনেছেন, নাসির দলে নেই…
ভিডিওটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।





