বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্রাক এর অঙ্গ সংগঠন’ আড়ং’ এর ‘গ্রাস রুট’ ক্যাফের ইফতারিতে তেলাপোকা পাওয়া গেছে ,কামাল নামে এক ব্যক্তি উত্তরা পশ্চিম থানায় বাদি হয়ে ‘ভোক্তা অধিকার আইনে মামলা করেন’।

গ্রাস রুট’ ক্যাফে নামে আড়ং উপরের তলায় এই ঘটনা ঘটে। ৩০০ টাকার ইফতারিতে ১১০০ টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ আসে নিয়মিত কাস্টমারদের কাছে।

আড়ং এর বেশির ভাগ শপিং মলের উপরের তলায় কিংবা একি ফ্লোরে রেস্তোরাঁ বা ক্যাফে রয়েছে। রম্যখান নামে এক অভিযোগকারী বলেন, আমরা আজকে আড়ং এর গ্রাস রুট’ ক্যাফে ইফতার করতে যায়। তখন সত্তর থেকে আশিজন রোজাদার ছিলাম। যেহেতু আমরা এখাকার দাম সম্পর্কে জানি সেহেতু তেমন কিছু বলি না । কিন্তু নরমাল ছোলা একটি জিলাপি ,একটা আপেল ,সুপ এবং একটা চিকেন মিলে ইফতারিতে আমাদের পরিবেশন করা হয় । আমাদের দুইজনের এই খাবারে বিল আসে ১১০০ টাকা । এতে আমাদের কোন অভিযোগ নেই।


ঘটনা ঘটে ইফতারের খাওয়ার সময়। কামাল নামে এক কাস্টমার দাড়িয়ে ছোলায় তেলাপোকা পাওয়া গেছে বলে সবাইকে বলে। তখন আমি বসে বসে শুনছিলাম ,তখনও কিছু বলিনি । পরে কামাল নামের ঐই ভদ্রলোক তাদের একজন কর্মচারীকে ডেকে বলেন তেলাপোকার কথা এবং অনেকক্ষন পর কোন ধরনের অনুসূচনা ছাড়ায়,মরা তেলাপোকাওয়ালা ছোলার প্লেটটি থেকে তেলাপোকা ফেলে দিয়ে প্লেটটি রেখে আসে পরে অস্বীকার করতে শুরু করে কিন্তু এর আগেই কামাল নামে ঐই ব্যক্তি ছবি তুলে রেখেছিল তারপর শারমিন নামে এক ভদ্র মহিলাসহ আমরা প্রতিবাদ করি’।

আমরা তাদের সিনিয়র কারো সাথে কথা বলার চেষ্টা করি কিন্তু প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর আমরা কাউকে কোন ধরনের দায়িত্বশীল আচরণ করতে না দেখে থানায় ফোন করি। এর মাঝে আমরা রান্নাঘর দেখতে চাই। রান্নাঘরে গিয়ে দেখি খাবারের ওপর তেলাপোকা। নোংরা পরিবেশ আমরা বরাবরই অবাক হয়ে যায় কারন এতো নাম করা একটা রেস্তোরাঁয় যদি এই অবস্থা হয় আমরা কোথায় যাব।‘ রম্য খান পেশায় একজন পরিচালক।

আরেক সাক্ষী শারমিন ইভার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আড়ং আমাদের ভালবাসার জায়গা কিন্তু আজকে যেটা দেখলাম সেটা কোনভাবেই কাম্য ছিল না । যেহেতু এই মানের ক্যাফেগুলো এইরকম টাকা আদায় করে তাই এটা নিয়ে কোন কথা বলবো না কিন্তু খাবারে তেলাপোকা কোনভাবেই সহ্য করা যায় না । আমি খুব কাছ থেকে বিষয়টি লক্ষ্য করেছিলাম। আমি তখনি কথা বললাম যখন দেখলাম রেস্তোরার কর্মচারীরা বাজে ব্যবহার করছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে ,কামাল নামে ঐ ব্যক্তিকে চিনি না । আমি পেশায় একজন ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিলর‘ সারা বাংলাদেশ কোনভাবেই যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে তাই আমাদের এই প্রতিবাদ । আমরা সধারন কাস্টমারা এইরকমটা আশা করিনি । আমি এইমামলা প্রথম সাক্ষী ।

প্রসঙ্গত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সালে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ২০১০ সালে ওই আইনের আওতায় অধিদপ্তরে অভিযোগ এসেছিল মোট ৭৩টি। সব কটিই নিষ্পত্তি হয়েছে। পরের তিন বছর অভিযোগের হার ছিল আরো কম। তবে এর পর থেকে বছর বছর বাড়ছে অভিযোগ তথা মামলা। সেই সঙ্গে প্রতিকারও পাচ্ছে ভোক্তারা। ২০১৪ সালে অভিযোগ জমা পড়ে ৫৩৭টি, সব কটিই নিষ্পত্তি হয়। ২০১৫ সালে ২২৫টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে একটি ছাড়া সবই নিষ্পত্তি হয়। ২০১৬ সালে অভিযোগ পড়ে এক হাজার ৬২২টি, যার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে এক হাজার ৬০৬টি। ২০১৭ সালের প্রথম দুই মাসেই এক হাজার ৬৮২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। নিষ্পন্ন না হওয়া অভিযোগের মধ্যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অভিযোগ জমা দেওয়ার পর অভিযোগকারী আর সাড়া দেননি। ফলে অভিযোগগুলো ‘নথিভুক্ত’ করে রাখা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মামলার সব কটিই ভোক্তার অনুকূলে গেছে। ভোক্তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় করা হয়েছে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সার্ভিসিং সেবা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।