ঈদকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল ও নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের পাশাপাশি তৈরিকৃত সেমাইতে ব্যবহার করছেন বিষাক্ত পোড়া তেল।
উপজেলার বামনকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, মুখরোচক খাবারের অন্যতম হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। ঈদে প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাইয়ের পাশাপাশি খোলা সেমাইও কিনেন অনেকে। কিন্তু কোথায় কীভাবে তৈরি হচ্ছে এসব সেমাই? এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই!
অনেক অনুসন্ধানের পর পাওয়া গেল জেলার গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার কৃষ্ণ মালঞ্চা গ্রামে আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে সেমাই তৈরির কারখানার সন্ধান। এ কারখানায় ১২জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। তারা ওই বাড়ির মধ্যে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা লাচ্ছা সেমাই তৈরি করছেন।
একই উপজেলার মালঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব আলী জানান, চারদিকে অস্বাস্থ্যকর, নোংরা, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। কোন ধরণের পোশাক ছাড়াই গরমের মধ্যে ঘামে ভরা শরীর নিয়ে ডালডা ও রং মিশিয়ে বানানো হচ্ছে সেমাইয়ের খামির। এরপর তা তেলে ভাজা হয়। কিন্তু ওই কড়াইয়ের তেল শেষ কবে বদলানো হয়েছে তা মনে করেও বলতে পারলেন না সেমাইর কারিগাররা।
সেমাই থেকে নিচের ট্রেতে চুঁইয়ে পড়া পোড়া তেল বারবার উঠিয়ে ব্যবহার করা হয় নতুন সেমাই ভাজার কাজে। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ খাজা সেমাই উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
আইয়ুব আলী আরো জানান, এমন অসংখ্য কারখানা রয়েছে উপজেলার সদর, বটতলী ও সোনারপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে। একদিকে বিএসটিআই’র অনুমতি ছাড়াই তৈরি হচ্ছে এসব লাচ্ছা সেমাই। অন্যদিকে, সেমাই তৈরিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের গায়ে কোন স্বাস্থ্য সম্মত পোশাক নেই। এছাড়াও এসব সেমাই তৈরির কারখানা থেকে পোড়া তেল কখনো ফেলা হয় না।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে নিয়মিত বখরা দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাচ্ছা সেমাই তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মিলন সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পৌর এলাকায় তার কোন দ্বায়িত্ব নেই।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মজিদুল ইসলাম জানান, এসব সেমাই খেলে মানুষ ডায়ারিয়া ও গ্যাস্টিক ছাড়াও বিভিন্ন কঠিন ও জটিল রোগে অসুস্থ্য হয়ে পড়তে পারেন।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হান্নান জানান, নিম্নমানে লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানাগুলো খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এসব কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
অপরদিকে, বিএসটিআই’র পরিচালক প্রকৌশলী এস এম ইসহাক আলী বলেন, সীমাবদ্ধতার কারণেই এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তাই এসব ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি।





