সেমিফাইনাল ম্যাচ যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তেজনার পারদ চড়ছে দুই দেশে। সহবাগের পালটা এবার বাশারের গলায়। এখন ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই উত্তেজনা, স্নায়ুযুদ্ধ। বৃহস্পতিবার আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বারুদে ঠাসা সেই ম্যাচ। উত্তেজনার পারদ চড়ছে প্রতিদিনই।
দু’ দেশের মাঠের লড়াইয়ের ফলাফল কী হবে, তার উত্তর দেবে সময়। ভারতকে নিয়ে যেমন স্বপ্ন দেখছেন অনেকে। তেমনই বাংলাদেশকে নিয়েও আশায় বুক বাঁধছেন সেই দেশের ক্রিকেটভক্তরা। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক হাবিবুল বাশারও এজবাস্টনে বল গড়ানোর আগে ছোট অথচ দামি পরামর্শ দিয়ে রেখেছেন মাশরাফি মোর্তাজাদের।
এক সময়ে খুব সহজেই বাংলাদেশকে হারাত ভারত। ছবিটা বদলে গিয়েছে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ থেকে। সেবার ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে ‘টিম ইন্ডিয়া’কে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। বাংলাদেশের কাছে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিল সৌরভ-সচিনদের। ২০১১ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে হেরে যায় বাংলাদেশ। ২০১৫-র বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ফের মুখোমুখি হয় ভারত-বাংলাদেশ। ম্যাচের
আগেই জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখানো হয় ‘জিতেগা ভাই জিতেগা, ইন্ডিয়া জিতেগা’। এ হেন বিজ্ঞাপন মেনে নিতে পারেননি তদানীন্তন বাংলাদেশের আইসিসি প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা কামাল। তিনি নিজে আইসিসি-র সিইও ডেভিড রিচার্ডসনকে ডেকে এই বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে বলেন। তার পরেও তা বন্ধ হয়নি। মাঠের ভিতরেও ছড়ায় উত্তাপ। রুবেল হোসেনের বলে ক্যাচ তুলেও বেঁচে যান রোহিত শর্মা। রি প্লেতে দেখা যায়, বলটি কোমরের নীচেই ছিল। বাউন্ডারি লাইনের উপরে দাঁড়িয়ে মাহমুদুল্লাহর ক্যাচ নিয়েছিলেন শিখর ধাওয়ান। তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
বিশ্বকাপের পরেই বাংলাদেশ সফরে যায় ভারত। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দল হেরে বসে ১-২-এ। প্রথম দু’টি ম্যাচ ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজের সৌজন্যে জিতে নেয় বাংলাদেশ। এই সিরিজে মুস্তাফিজকে ধাক্কা মেরে ব্যাপক সমালোচিত হন ধোনি। ২০১৬ সালে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতেও ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচটি উত্তাপ ছড়িয়েছিল। জেতা ম্যাচ মুশফিকুর রহিমরা ছুড়ে দিয়ে চলে আসেন। ১ রানে ম্যাচ জেতে ভারত।
এবার বিশ্বকাপ নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ভারতের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দ্র সহবাগ ভারতকে আগেভাগেই সেমিফাইনাল ও ফাইনালের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশকে ধর্তব্যের মধ্যেই রাখেননি সহবাগ। এই প্রসঙ্গই উত্থাপ্পন করা হয়েছিল হাবিবুল বাশারের কাছে। কোথায় বাশার গরমাগরম মন্তব্য করবেন, উলটে জল ঢেলে দেন তিনি। বাশার বলেন, ‘‘সহবাগ কী বলেছে, তা বড় করে দেখার কোনও কারণ নেই। আমরা আমাদের খেলা নিয়ে থাকতে চাই।’’
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার ম্যাচে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয়। বাংলাদেশ-ভক্তদের পাশাপাশি হাবিবুল বাশারের প্রত্যাশাটা বেড়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘আমার প্রত্যাশা অনেক উপরে। আমি বাংলাদেশকে ফাইনালে দেখতে চাই।’ মাশরাফিদের ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর মতে, ‘‘বাংলাদেশ যেন স্বাভাবিক খেলার চেষ্টা করে। স্পেশাল কিছু করার দরকার নেই।’’





