রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি চাল এবং আহতদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, অতিবৃষ্টিতে রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে হতাহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ হিসেবে ৫০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল এবং সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেসরকারি হিসেবে পাহাড় ধসে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে এ পর্যন্ত ৮৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া গাছচাপা, দেয়ালচাপা ও বজ্রপাতে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাঙামাটিতে। রাঙামাটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জন নিহত হয়েছেন। সদর, কাউখালী, বিলাইছড়ি, মানিকছড়ি ও কাপ্তাই উপজেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
রাঙ্গামাটির মানিকছড়িতে উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন এক সেনা সদস্য। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ সেনা সদস্য।
এদিকে বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকায় তিনটি পাহাড় ধসে পড়েছে। বান্দরবান সদর থানার ওসি রফিক উল্লাহ জানান, সোমবার রাতে শহর এলাকার কয়েক জায়গায় পাহাড় ধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মংকু চিং বলেন, হাসপাতালে আসা ৭ জনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছে। এছাড়া আরও ২৪ জনকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া ও বাঁশখালীতে পাহাড় ধসে শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
বঙ্গোপসাগরে থাকা নিম্নচাপের প্রভাবে গত রবিবার রাত থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে সারা দেশে। সোমবার এটি বাংলাদেশের উপকূল ও স্থলভাগ অতিক্রম করে। এর প্রভাবে বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়ে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে গ্রাম-শহরে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়। অনেক স্থানে বন্ধ করে দেয়া হয় নৌযান চলাচল।





