আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চতুর্থ সেমিফাইনালিষ্ট নির্ধারনি ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৩৭ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেটে জয় পেল পাকিস্তান। সেই সাথে সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল পাকিস্তান।
সহজ টার্গেট তাড়া করতে নেমে প্রথমে শ্রীলঙ্কার ভালো বলিং এর কারণে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পরে । একের পর এক উইকেট হারিয়ে হারিয়ে পাকিস্তানের সেমিফাইনাল প্রায় অনিশ্চিত হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে পাকিস্তান জয়ের দেখা পেল।
ধসেপড়া ভগ্ন স্তূপ থেকে পাকিস্তানকে টেনে তুলেন সরফরাজ। তা না হলে পাকিস্তানের প্লেনের টিকিট ধরতে হতো। সরফরাজের ভালো ব্যাটিং এর কারণে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টান টান উত্তেজনা ম্যাচে জয় পেল পাকিস্তান। সরফরাজের সাথে আমির দিকভ্রান্ত নৌকার হাল ধরেন। সরফরাজ ৭৯ বলে ৫১ রান ও আমির ৪৩ বলে ২৮ রান করেন।
এক ক্যাচ মিড অনে এই সময় তুলে দেন সরফরাজ। সেই বল কিভাবে ফেলে দেন থিসারা পেরেরা! তার অবস্থা তখন 'ধরণী তুমি দ্বিধা হও...!' থিসারার হাত গলে লঙ্কান ফাস্ট বোলারদের বীরোচিত বোলিং ওই বলের সাথে মাটিতে লুটায়। সেই সাথে শ্রীলঙ্কার সেমিতে খেলার শেষ সুযোগও। তাতে ক্যাপ্টেন্স নকে প্রায় হারা এক ম্যাচে সরফরাজই প্রতিপক্ষকে ছিটকে ফেলে সোমবার পাকিস্তানকে নিয়ে গেলেন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতে। কি ট্র্যাজেডি লঙ্কানদের! নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হেরে তারা নিলো বিদায়। থিসারার মাখন লাগানো হাতের কল্যাণে সরফরাজ হলেন বীর। সাথে পার্শ্বনায়ক মোহাম্মদ আমির! ১৪ জুনের সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে পাকিস্তান!
পাকিস্তানি পেসাররা দারুণ দাপটে লঙ্কানদের ৪৯.২ ওভারে অল আউট করেছিল ২৩৬ রানে। লক্ষ্য মাঝারি। ফখর জামানের দ্রুতগতির ৫০ এ ৭৪ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ পাকিস্তানের। কিন্তু এরপর লঙ্কান পেসারদের লাগাতার তোপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। ১৩৭ রানে নেই ৬ উইকেট। তখনো ১০০ রান বাকি! অভিষিক্ত ফাহিম আশরাফ প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়েছিলেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটিং বীরত্বে। এবার সরফরাজের হিটে বোলারের হাত হয়ে স্টাম্প ভাঙা বলে ফাহিম ১৫ রানে নেই। কি হবে?
আমির এই ম্যাচেই প্রথম উইকেট পেলেন। দেশের বাঁচা-মরার ম্যাচে পুরোদস্তুর সহায়ক ব্যাটসম্যানের ভূমিকা তার। সরফরাজ টেনে নিয়ে চলেন। কিন্তু ভাগ্য ভালো নয় শ্রীলঙ্কার কিংবা খুব ভালো পাকিস্তানের। নইলে থিসারা ওই ক্যাচ ছাড়বেন কেন? কিংবা মালিঙ্গার পরের ওভারেই বা হাফ চান্সটাকে সেকুগে প্রসন্ন ফুল চান্সে রূপ দিতে পারবেন না? অষ্টম উইকেটে তাই দারুণ অক্সিজেন নিয়ে আমির ও সরফরাজ দুর্বার। ৭ উইকেটে ১৬২ রান থেকে তাদের যাত্রা শুরু। আর যেখানে গিয়ে শেষ সেখানে সরফরাজের সাথে বীর ব্যাটসম্যান হিসেবে আমিরের নামটাও সমান উজ্জ্বল। ৭৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে সরফরাজ-আমিরই তো সেমিতে নিলেন পাকিস্তানকে। ৪৪.৫ ওভারে জয়ের বন্দরে পাকিস্তান।





