দেশের দক্ষিণ পশ্চিামাঞ্চলের যাত্রীদের চিরচেনা কাওড়াকান্দি ঘাটটি এখন পরিত্যাক্ত। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের কাওড়াকান্দি সরিয়ে নেয়া হয়েছে শিবচরের কাঠালবাড়িতে।

কাঠালবাড়ি এলাকার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরি ফেরিঘাট দিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। আর মাত্র ১৫ দিন পরই ঈদুল ফিতর। ঘাটটি চালুর পর এই প্রথম আসন্ন ঈদুল ফিতর। আসন্ন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা যাতায়াত করবে ফেরিঘাট দিয়েই। ফেরিঘাট সংলগ্ন দুটি সড়ক ওয়ানওয়ে। কিন্তু সড়ক দুটি বেশ সরু। ঈদ উপলক্ষে ঘরে ফেরা যাত্রীদের জন্য বিকল্প কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করা হলে তীব্র যানজটের আশংকা করছেন যাত্রীরা। তাই আসন্ন ঈদ উপলক্ষে পরিত্যাক্ত কাওড়াকান্দি ফেরি ঘাটটি লঞ্চ যাত্রীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলে যানজট লাঘব হতে পারে বলে দাবি যাত্রীদের। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনও যাত্রীদের সুবিধার্থে বিকল্প পথের চিন্তা করছেন।

যানবাহনগুলো ফেরিঘাটের ওয়ান ওয়ে সড়ক ব্যবস্থা করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর জন্য নির্মিত এপ্রোজ সড়কের আধুনিক ভাবে প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক চলাচল করতে পারছে যাত্রীরা। আগের তুলনায় ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোডের জন্য নৌ-পথ কমেছে প্রায় ৬ কিলোমিটার। কিন্তু পদ্মা সেতুর এপ্রোজ সড়ক থেকে কাঠাল বাড়ি ফেরিঘাট পর্যন্ত যানবাহন ফেরিঘাটে প্রবেশের জন্য এবং ফেরিঘাট থেকে পদ্মা সেতুর জন্য নির্মিত এপ্রোজ সড়ক পর্যন্ত পৌছানোর জন্য ব্যবহৃত দুটি সড়কই খুব সরু। ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাটে রয়েছে ৩টি টার্মিনাল এবং ৩টি ফেরিঘাট।

লঞ্চ ও স্পিবোড চলাচলের জন্য ব্যবহৃত পন্টুন গুলোও একটি আরেকটির সঙ্গে লাগোয়া। এ ঘাট দিয়েই চলাচল করছে ৮৭টি লঞ্চ ২শতাধিক স্পিডবোড এবং ১৭টি ফেরি। আর এই ঘাট দিয়ে ঈদে যাতায়াত করতে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার যাত্রীরা। তাই আসন্ন ঈদ উপলক্ষে পরিত্যাক্ত কাওড়াকিান্দি ফেরিঘাটটি অন্তত শুধু লঞ্চ যাত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হলে যানজট কিছুটা লাঘব হতে পাবের বলে দাবি যাত্রীদের। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও যাত্রীদের সুবিধার্থে বিকল্প পথের চিন্তা করছেন। আগামী ১৬ জুন বিকেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সাধারণ যাত্রী ও লঞ্চ চালকরা জানান, এই ঘাট দিয়ে ঈদে যাতায়াত করবে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার যাত্রীরা। তাই আসন্ন ঈদ উপলক্ষে পরিত্যাক্ত কাওড়াকিান্দি ফেরিঘাটটি অন্তত শুধু লঞ্চ যাত্রীদের জন্য ব্যবহার করা হলে যানজট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে দাবি সকলের।

ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর উত্তম কুমার শর্মা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই ঘাট দিয়ে সকল যাত্রী সাধারন যাতে নিরাপদে বাড়ীতে ফিরতে পারে সে জন্য আমরা সদা সজাগ থাকবো।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরে ফেরা মানুষদের জন্য নৌ-পথে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লঞ্চ, ফেরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাতে নৌ দুর্ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে কঠোর নজর দারী রাখা হবে।