সেঞ্চুরির পর উইকেটে চুমু এঁকে দিয়েছেন, সেজদা দিয়েছেন। ব্যাট উঁচিয়েছেন ড্রেসিং রুমের দিকে। কৌতুহলের জায়গাটা এখানেই। ব্যাটে অটোগ্রাফ ধরনের কিছু একটা দেখাচ্ছিলেন আঙুল দিয়ে। বাচ্চাদের মতো কিছু একটা ভঙ্গি করচ্ছিলেন। উদযাপনের আড়ালের গল্প কি?
ড্রেসিং রুমে দারুণ প্রাণবন্ত ও হইচই প্রিয় হলেও বাইরে বেশ অন্তর্মু্খী মাহমুদউল্লাহ। ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো নিজের মাঝেই রাখতে চান। ২০১৫ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির পর তার উড়ন্ত চুম্বন নিয়েও ছিল অনেকের কৌতুহল। মাহমুদউল্লাহ সেটা নিয়ে খোলাখুলি বলেছেন কমই। তবে এবার বললেন আড়ালের গল্প!
মাহমুদউল্লাহ বলেন, “এবার ইংল্যান্ডে আসার আগে ব্যাগ গোছাচ্ছিলাম। আমার ছেলে পাশে থেকে দেখছিল। হঠাৎ একটি ব্যাট
নিয়ে ছেলেটা ওর নাম লিখল ব্যাটে। আমাকে বললো, ‘বাবা এই ব্যাট দিয়ে খেলো, ভালো খেলতে পারবে।’ আমি ওই ব্যাট দিয়েই খেলেছি। সেঞ্চুরির পর ছেলের কথাটিই বোঝাতে চেয়েছিলাম।”
৫ বছর বয়সী ছেলে অবশ্যই ক্রিকেটের জটিল অঙ্ক, হিসাব-নিকাশ বোঝে না। বাবার সেঞ্চুরির ওজনটাও বোঝার বয়স তার হয়নি। বাবা ভালো খেলেছেন, এতেই খুশি সে। বাবার আশীর্বাদ যে কোনো ছেলের বড় পাওয়া। এখানে ছেলের ভালোবাসার স্পর্শই ছিল বাবার অনুপ্রেরণা! সেই অনুপ্রেরণা নিয়ে কার্ডিফে এক মহাকাব্যের জন্ম দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
উল্লেখ্য, পাঁচ উইকেট হাতে রেখে ১৬ বল বাকি থাকতে জয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। সাকিব ১১৫ বলে ১১৪ রান ও মাহমুদুল্লাহ ১১৭ বলে ১০২ রান করেন। দলীয় টার্গেট ২৬৫ রানের মধ্য এই জুটিই করে ২২৪ রান। তাদের অসাধারণ এই পার্টনারশীপে খুশির জোয়ারে ভাসলো পুরো বাংলাদেশ।
কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ২৬৫ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশকে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শূণ্য রানে তামিমকে ও দলীয় ১২ রানে সৌম্য ও সাব্বিরকে হারিয়ে ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলীয় ৩৩ রানের মাথায় মুশফিককে হারিয়ে পথ হারায় বাংলাদেশ।
তবে মূল পথে ফিরতে বেশি সময় নেয়নি টাইগাররা। অভিজ্ঞ সাকিব-মাহমুদুল্লাহ হাল ধরে বাংলাদেশের। সেই হাল তখনই ছাড়লেন তারা যখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে দল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের অসাধারণ জয়ে ও ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ে সেমিফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ।





