ময়মনসিংহের সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ঘাগড়া চৌরাস্তা বাজারে ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি নতুন আরসিসি ব্রিজ। এ ব্রিজটি নির্মাণের মধ্যে দিয়ে পূরণ হয়েছে ৫ টি গ্রামে বসবাসরত হাজার হাজার মানুষের শত বছরের লালিত স্বপ্ন।

‘এলাকাবাসীর আনন্দ উল্লাস, বাধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস যেন কাল হয়ে দাড়িয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার। তিনি ব্রিজের ঠিক সামনের সড়কটিতে নির্মাণ করেছেন সীমানা প্রাচীর। ফলে সড়ক ও ব্রিজ দুটিই সম্পন্ন অকেজো। ঘটনাটি ঘটিয়েছেন স্থানীয় দাপুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক। তার দাবি, নিজের জমির উপর দিয়ে তিনি রাস্তা দিবেন না।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার একেধারে দুইদিন সরেজমিনে গিয়ে এলাকার বিশিষ্টজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের গলদ পরিকল্পনার কারনে সরকারের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ব্রিজ গচ্ছা যেতে বসেছে। জানা যায়, দাপুনিয়া-চুরখাই বাইপাস সড়ক ধরে কয়েক কিলোমিটার সামনেই ঘাগড়া চৌরাস্তা বাজার।

এ বাজারের মাঝখানে সুতিয়া নদীর ওপর একটি আরসিসি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে মেসার্স তমাল এন্টার প্রাইজকে এ ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে তমাল এন্টার প্রাইজ নির্মাণ কাজ শেষ করে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ২০ থেকে ২২ দিন আগে হঠাৎ করেই স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক ব্রিজের সামনে যাতায়াতের রাস্তাকে নিজের জমি দাবি করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন।

এলাকাবাসীরা ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ব্রিজ আছে অথচ একটি বাইসাইকেল চলার মতোও জায়গা নেই। আ’লীগ সরকার আমলে বিএনপি নেতার এ কেমন দুঃসাহস।

রাস্তার উপর সীমানা প্রাচীর নির্মাণ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল হক বলেন, আমার সাফকাওলা ৪ শতাংশ জমির উপর দিয়ে ব্রিজের রাস্তা হয়েছে। এ কারণে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়েছি। ব্রিজ নির্মাণের আগেই আমি একটি অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি।’ বিএনপি নেতা আরও দাবী করে বলেন, রাস্তার পশ্চিম পাশে সরকারি জায়গায় অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। সেটি উচ্ছেদ করলে জনস্বার্থে আমি আমার নিজের জায়গা রাস্তার জন্য দিয়ে দিব।’

তবে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহম্মদ মুবিনুর রহমান বলেন, এ ব্রিজ নির্মাণের সময় তিনি বাঁধা দেননি। আপত্তিও তুলেননি।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজ সংলগ্ন সরকারি জমিতে পাকা দালান ঘর নির্মাণ করে স্থানীয় আওয়ামীলীগ দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান সরকার ভাড়া দিয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে চেয়ারম্যানের চলছে দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়েছেন ওই বিএনপি নেতা।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমদ বলেন, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা থাকলে সেটি উচ্ছেদ করা হবে। ব্রিজের সামনে কেন সিমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে তারও ব্যবস্থা নেয়া হবে।