‘জাতিসংঘ’ হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি) ছাড়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থাটির বিরুদ্ধে ইসরায়েল বিরোধী আচরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কারণে সংস্কারের সম্ভাবনা না দেখায় সংস্থাটি ছাড়ার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৬ জুন) জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিক্কি হ্যালি বলেন, ‘শুনতে কঠিন শোনালেও ইউএনএইচআরসি ছাড়ার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন।

তিনি জানান, চলতি বছর সংস্থাটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচটি রেজ্যুলেশন পাস করেছে। কিন্তু ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংঘাতের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদেই সংস্থাটি ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

হ্যালি জানান, মঙ্গলবার দিন শেষে কাউন্সিলের বৈঠকে তিনি বিষয়টি তুলবেন। আর আগামী তিন সপ্তাহ জুড়ে জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কাউন্সিলের বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করবে।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্টের এক নিবন্ধে তিনি লিখেন, ‘সমালোচনার জন্য ইসরায়েলকে বেছে নেয়ার ভুল পথ থেকে ইউএনএইচআরসিকে ফিরে আসতে হবে। এমন প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।’

নিক্কি হ্যালি ৪৭ সদস্যের এ সংস্থায় সমাজতান্ত্রিক কিউবা ও ভেনেজুয়েলার সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, ইউএনএইচআরসি’র সদস্য হলেও এসব দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা ব্যাপক। তবে একই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি মার্কিন মিত্র মিসর ও সৌদি আরবের সদস্যপদ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে যুক্তরাষ্ট্র ইউএনএইচআরসি ছেড়ে যায়। এরপর টানা তিন বছর দেশটি এ সংস্থার বাইরে ছিল। পরে ২০০৯ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্যোগে সংস্থায় ফিরে আসে যুক্তরাষ্ট্র।

এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাত ধরে দেশটির বহুজাতিক চুক্তি ও সংস্থা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি বাণিজ্য চুক্তি ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পর্ষদ ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জেনেভা অফিসের পরিচালক জন ফিশার এর মতে, এর মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রশাসন সংস্থাটির সংস্কারের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাচ্ছে। তার মতে, ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘন অবশ্যই ইউএনএইচআরসি’র আলোচ্যসূচিতে থাকবে। কিন্তু যখন এ ইস্যুতে সংস্থাটি বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করে, তখন বুঝতে হবে কোথাও সমস্যা আছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে কোনো দেশের সরকারকে বাধ্য করার এখতিয়ার নেই জাতিসংঘের এ সংস্থার। তবে এ মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইউএনএইচআরসি’র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সংস্থাটি এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসলায়েলের বেআইনি দখলদারিত্বের সমালোচনা করে ৭০টিরও বেশি রেজ্যুলেশন পাস করেছে।